বিয়ের আগেই জানুন জরুরী কিছু তথ্য

বিয়ের আগেই জানুন জরুরী কিছু তথ্য নভেম্বর ১২, ২০১৮ ০ comments
Wedding

ছবি- সংগৃহীত

 

রঙিন ডেস্ক: ঝড় আসবে হলে ঘর বাঁধব না, এমন করা যাবে না। বরং শক্ত করে বাঁধব। ঝড়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকব আপনজনের পাশে। সে জন্য একটি খসড়া পরিকল্পনা অন্তত থাকা চাই। আবার পরিস্থিতি আর পরিকল্পনা অনেক সময় এক হয় না।

তবে বিয়ের পর যার সাথে একটি দীর্ঘ পথ পারি দিতে হবে, সম্ভব হলে তার বিষয়ে আগেই কিছু তথ্য জেনে নিন।

সম্মতি: বিয়েতে ছেলের সম্মতি আছে কি না জেনে নেয়াটা যেমন জরুরী তেমনি মেয়ের সম্মতি আছে কি না সে বিষয়ে ছেলেরও জানা দরকার। তবে এ বিষয়ে ছেলে মেয়ের মধ্যে সরাসরি আলাপ হলে ভালো।

বয়স: বিয়ের ক্ষেত্রে বয়স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি বয়সে বিয়ে হলে ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্ব বতে পারে। আবার মেয়েদের বেশি বয়সে বিয়ে হলে সন্তান শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়াসব ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়ার আশঙ্কা থাকে। সেক্ষেত্রে মেয়েদের ত্রিশ বছরের পর প্রথম বাচ্চা নেয়াটা খুবই ঝুঁকির কারণ হয়ে যায়। তবে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হলেও বেশ কিছু স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে যায়। অল্পবয়সী মেয়েদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণটা খুবই ঝুঁকির। তাই বিয়ের জন্য ছেলে মেয়ে উভয়ের বয়স বিবেচনা করাটা খুব জরুরি একটি বিষয়। বিয়ের পাত্র পাত্রী দুজনেই প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। ছেলের বয়স মেয়ের বয়সের থেকে ৪/৫ বছর চিকন হলে ভালো।

বিশেষ কোনো রোগ আছে কি না: আমাদের সমাজে এর তেমন প্রচলন না হলেও বিয়ের আগেই ছেলে এবং মেয়ের মেডিকেল টেস্ট করা জরুরি। এইডস, হেপাটাইটিস বা কোনো যৌন রোগ আছে কি না, তা জানা খুবই দরকার। যাতে তার সঙ্গী সেই রোগে আক্রান্ত না হয়। তাই বিয়ের আগে মেডিকেল টেস্টের প্রয়োজন আছে।

আরো পড়ুন: আপনারা সুখী দম্পতি তো ?

ব্লাডগ্রুপ: স্বামীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হলে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ বা নেগেটিভ যে কোনো একটি হলেই হবে। কিন্তু স্বামীর ব্লাডগ্রুপ যদি পজেটিভ হয়, তাহলে স্ত্রীকেও পজেটিভ ব্লাড গ্রুপের একজন হতে হবে। স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হলে পরবর্তীতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।। একজন নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের নারীর সাথে একজন নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের পুরুষের বিয়ে হওয়াটা নিরাপদ।

আয়ের উৎস: পাত্র বা পাত্রীর কর্মক্ষেত্রে খোঁজ নিন, তার উপার্জনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। তিনি কোনো অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত কি না বা তার আয়ের উৎস যথাযথ কি না, সে ব্যাপারে খোঁজখবর করুন। অনেক সময় ছেলে কম বেতন পেলেও তা বাড়িয়ে বলা হয়। আবার কর্মক্ষেত্রে পদমর্যাদা ছোট হলে তা-ও গোপন করা হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটতে পারে। বিয়ের পূর্বে নিজের আর্থিক সচ্ছলতার দিকটিও বেশ ভালো করে খতিয়ে দেখা উচিত। আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে খরচের পরিমাণ নির্ধারণ করে নিন। সামাজিক প্রথার সাথে তাল মেলাতে গিয়ে নিজে বেতালে পড়বেন না যেন।

তার পরিবার: বিশেষ কিছু রোগ বংশগতির মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মে বিস্তার করে। এর মধ্যে রয়েছে থ্যালাসেমিয়া, মাসকুলার ডিসট্রফি (মাংসপেশীতে একধরনের দুর্বলতা), স্নায়ুর বিশেষ কয়েকটি অসুখ (মৃগী রোগ), অ্যাজমা, গ্লুকোমা ইত্যাদি। এসব রোগের যাবতীয় পরীক্ষা বিয়ের আগেই করে নেয়া উচিৎ। আর সেজন্য ডাক্তার পরামর্শ নিয়ে নিন বিয়ে পরবর্তী সতর্কতা বিষয়ে।

পরিকল্পনা আলোচনা করে নিতে পারেন: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোলাখুলি আলোচনা করুন। এতে বিয়ের পরে সংসার, ক্যারিয়ার ইত্যাদি বিষয়ে সমস্যা কম হবে। সম্ভব হলে বাচ্চা কবে নিতে চান এ ব্যাপারেও কথা বলুন। এছাড়াও আপনারা বিয়ের পর যৌথ পরিবারে থাকবেন, না কি আলাদা থাকবেন, তাও বিয়ের আগে আলোচনা করে নিশ্চিত হয়ে নিন। কোথায় থাকবেন, কারও কর্ম নিয়ে কারও সমস্যা আছে কি না? তাও জেনে নিন।

ভালোবাসা আর ক্ষমা এই দুটি জিনিষের কাছে পৃথিবীর অনেক যুক্তি ম্লান হয়ে যায়। বেঁচে থাকে পথ চলা। যারা নতুন বিয়ে করতে যাচ্ছেন তাদের জন্য রইলো শুভ কামনা।

এসএল/এএইচ

এসজেডকে

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

<