কিছু টাকা উদ্ধার করা সম্ভব : রাল্প রিস্তো

কিছু টাকা উদ্ধার করা সম্ভব :  রাল্প রিস্তো 0 comments

রঙিন ডেস্ক : ফিলিপাইন সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আশার আলো দেখতে পাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া টাকার কিছু অংশ অন্তত উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা্ করা হচ্ছে। ফিলিপাইন সিনেটের প্রেসিডেন্ট প্রো তেমপোরে রাল্প রিস্তোও বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৩৪ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করা সম্ভব।এ জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার স্থানীয় এক রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওই অর্থ ফিলিপাইন সরকার দ্রুত উদ্ধার করতে পারবে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় গত মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো ফিলিপাইনের সিনেটে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে চীনা ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম ওয়ং স্বীকার করেন, চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৬১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে ঢোকানো হয়। এর মধ্যে ১ বিলিয়ন পেসো (মোট অর্থের এক-চতুর্থাংশ) তার প্রতিষ্ঠানে গেছে, যার অর্ধেক তিনি ফেরত দিতে আগ্রহী।ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজার কোম্পানি লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও মহাব্যবস্থাপক কিম ওয়ংকে রিজার্ভ চুরির ‘মূল হোতা’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

হংকংভিত্তিক ওই কোম্পানিটি ফিলিপাইনে ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। চুরি হওয়া অর্থ তার কোম্পানির ক্যাসিনোতে গেছে বলে আগে থেকেই অভিযোগ করা হচ্ছিল। ব্যবসায়ী কিম ওয়ং বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে আসা এক বিলিয়ন পেসোর মধ্যে ৫৫০ মিলিয়ন পেসো জুয়ার গুটিতে (চিপস) রূপান্তরিত করা হয়, যার মধ্যে ৪০ মিলিয়ন পেসো অবশিষ্ট রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘বাকি ৪৫০ মিলিয়ন পেসো ঋণ পরিশোধের অংশ হিসেবে দেন জুয়া খেলার অপারেটর শুহুয়া গাও।  কিন্তু এটা যদি কোনো অবৈধ পন্থায় আসে, তাহলে আমি বাংলাদেশ সরকারকে ফেরত দেব।’ ওই শুনানিতে কিম ওয়ং আরো জানিয়েছিলেন, বেইজিংভিত্তিক তার বন্ধু গাও ও ম্যাকাও -এর বিনিয়োগকারী ডিং জিজি বিদেশ থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনে এনেছিলেন। ওই অর্থ রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) মাকতি শহরের জুপিটার শাখা জমা হয়েছিল। ওই অর্থ উত্তোলনের জন্য সাহায্য করছিলেন ওই শাখার ব্যবস্থাপক মায়া স্যান্তোস দেগুইতো।

আরসিবিসির মাকতি শাখা থেকে ওই অর্থ সোজা চলে যায় দেশটির মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান ফিলরেম করপোরেশনের কাছে। যদিও ফিলরেম ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ৩৪ মিলিয়ন ডলার উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ফিলিপাইনের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান রেক্তো।

তিনি বলেন, ওই ৩৪ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৭ মিলিয়ন ডলার ফিলরেম করপোরেশনে এখনো জমা রয়েছে বলে শুনানিতে দাবি করেন ওয়ং। আর ফিলরেম থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার ওয়ংয়ের প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাওয়াই লেজার কোম্পানি লিমিটেডে জমা হয়। ওয়ংকে ওই অর্থ দেনা পরিশোধের অংশ হিসেবে দিয়েছিলেন গাও। আর ফিলরেমের মিশেল বাউতিস্তার বাসা থেকে ৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেন ওয়ং। আর বাকি ২ দশমিক ৩৬২ মিলিয়ন ডলার সোলাইরি ক্যাসিনোর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে।

অর্থ চুরির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর সোলাইরির ওই অ্যাকাউন্টটি স্থগিত (ফ্রিজ) করে রাখায় ওই অর্থ খরচ করা সম্ভব হয়নি।   রিস্তো বলেন, কীভাবে আমরা বাংলাদেশকে সব অর্থ ফেরত দিতে পারি সেই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা জানি বাংলাদেশ একটি গরীব দেশ। আর গাও যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির মূল হোতা হয়ে থাকেন, তাহলে হ্যাকারদের নামও জানা সম্ভব হবে। ওয়ং-এর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক আন্তর্জাতিক এ অর্থ জালিয়ারির ঘটনা তদন্ত করে দেখছে বলে জানান রিস্তো। এর আগে ফিলরেম জানিয়েছিল, মুদ্রা বিনিময় করে তারা যে অর্থ পেয়েছে তার পুরোটা বাংলাদেশকে ফেরত দেবে।

এএইচ

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.