রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ‘নীরজা’

রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে ‘নীরজা’ February 19, 2016 0 comments

রঙিন ডেস্ক: ঘটনাটা ১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। পাকিস্তানের করাচিতে একটি বিমান হাইজ্যাক হয়। এতে যাত্রী ছিলেন ৩৫৯ জন। বিমানবালাদের মধ্যে ছিলেন ২৩ বছর বয়সী অকুতোভয় নীরজা ব্যানট। ‘নীরজা’ নামের সাথে জড়িয়ে আছে এক সত্যিকারের রোমহর্ষক ইতিহাস। মাত্র তেইশ বছর বয়সেই ৩৫৯টি প্রাণ বাঁচিয়ে যে মেয়েটি মারা গিয়েছিলো তিনিই নীরজা ব্যানট। এই সত্যিকারের নীরজার কাহিনী নিয়েই বলিউডে নির্মিত হয়েছে ‘নীরজা’ শিরোনামের ছবি।

আজ থেকে প্রায় তিরিশ বছর আগে নীরজার সেই অসম সাহসিকতা আর মানবিকতার এই অসাধারণ কাহিনি নিয়েই আজ শুক্রবার ভারতে মুক্তি পাচ্ছে ‘নীরজা’ চলচ্চিত্র। ছবিটির পরিচালনা করেছেন রাম মাধবানি। এই জীবনীভিত্তিক ছবিতে নীরজার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বলিউডের ‘ফ্যাশন লেডি’ খ্যাত অভিনেত্রী সোনম কাপুর।

এদিকে ভারতের চলচ্চিত্র জগতের দিকপালরা প্রায় সবাই মুক্তির আগে এই ছবিটির প্রিভিউ প্রিমিয়ার দেখে উচ্ছ্বসিত, প্রত্যেকেই টুইটারে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে ‘নীরজা’ ছবির প্রশংসায় ফেটে পড়েছেন।

প্যান অ্যামের ফ্লাইট ৭৩, বিমানের প্রধান ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট নীরজা ভানোত। ছবি সংগৃহীত

প্যান অ্যামের ফ্লাইট ৭৩, বিমানের প্রধান ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট নীরজা ভানোত। ছবি সংগৃহীত

বলিউড তারকা ঋত্বিক রোশন ছবিটি দেখে টুইট করে বলেছেন, ‘অবিশ্বাস্য একটা পারফরম্যান্স! কোন ছবি দেখে শেষবার এতো কেঁদেছি, মনে করতে পারলাম না।’

আরেক তারকা আমির খানও ‘নীরজা’ দেখে একই রকম উচ্ছ্বসিত ও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। তিনিও বলেছেন, ‘সকলের এই ছবিটা দেখা উচিত।’

প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালের পাকিস্তানের করাচি বিমানবন্দরে হাইজ্যাক চারজন সশস্ত্র জঙ্গি। লিবিয়ার মদতপুষ্ট আবু নিদাল অর্গানাইজেশনের সদস্য সেই জঙ্গিরা চেয়েছিল সেটিকে ইসরায়েলে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে কোনো উঁচু ভবনের সঙ্গে ধাক্কা মেরে বিরাট এক আঘাত হানতে। মুম্বাই থেকে নামা প্যান অ্যামের ফ্লাইট ৭৩, বিমানটি করাচি ও ফ্রাংকফুর্ট হয়ে নিউইয়র্কের যাওয়ার কথা ছিল। ৩৬১ যাত্রী আর ১৯ ক্রু সদস্য ছিল বিমানে।

ওই বিমানের প্রধান ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ছিলেন নীরজা ভানোত, যার ওপর ছিল বিমানের সব আরোহীর দেখাশোনা আর তাদের যাত্রাকে আরামদায়ক করে তোলার প্রধান দায়িত্ব। ভারতের চন্ডীগড়ে জন্মানো ২২ বছরের নীরজা ছিলেন একজন মডেলও।

ছিনতাই হওয়া বিমানটিতে জঙ্গিদের প্রথম নিশানা ছিল মার্কিন নাগরিকরা। যেখানে ৪১ জন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। কিন্তু নীরজা ও তার সঙ্গী অ্যাটেনডেন্টরা মিলে প্রথমেই কৌশলে সেই মার্কিন নাগরিকদের পাসপোর্টগুলো লুকিয়ে ফেলেন, যেন জঙ্গিরা তাদের আলাদা করতে না পারে।

করাচি এয়ারপোর্টে ১৭ ঘণ্টা ধরে হাইজ্যাক করে রাখার পর বিমানের ভেতর জঙ্গিরা গুলি চালাতে ও বিস্ফোরক প্রয়োগ করতে শুরু করে, তখনই নীরজা ভানোত বিমানের ইমার্জেন্সি ডোর খুলে একে একে যাত্রীদের বাইরে বের করতে থাকেন। কিন্তু তিনটি বাচ্চাকে অসম সাহসিকতায় জঙ্গিদের বুলেটবৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের প্রাণটাকেই আর বাঁচাতে পারেননি তিনি।

এসএল/এএইচ

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.