যে কারণে এই গ্রামে সবার তিন বউ!

যে কারণে এই গ্রামে সবার তিন বউ! 0 comments

রঙিন ডেস্ক : মহাভারতে অনেকগুলো রাজ্য। এসব রাজ্যে অনেক গ্রাম রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় এক এক গ্রামে একেক ধরনের আশ্চর্য্য রীতি প্রচলিত রয়েছে। যেসব রীতি সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। তেমনই এক আজব রীতি হলো এক পুরুষের তিনজন করে বউ!

একপুরুষের তিন বউ এটা কোনো আজব খবর নয়। কারণ পৃথিবীর প্রায় সবখানেই এমন ব্যক্তির দেখা মেলে। তবে ভারতের ওই গ্রামে সব পুরুষেরই তিনটি করে বিয়ের রিতী রয়েছে।

গ্রামের নাম দেঙ্গানমল। মুম্বাই থেকে প্রায় ১৫০ কিমি দূরত্বে অবস্থিত এই গ্রামের অধিকাংশ পুরুষই কমবেশি তিন জন স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করেন। না, নিছক ভোগলালসা মেটানোর জন্য বহুবিবাহের পথ তাঁরা বেছে নেন না; বরং একাধিক বিয়ের একমাত্র কারণ হচ্ছে পরিবারে জল আনার লোকের সংখ্যা বাড়ানো।

দেঙ্গানমল এমন একটি গ্রাম যেখানে প্রবল জলকষ্ট। প্রত্যন্ত এই গ্রামে জলের একমাত্র উৎস কয়েকটি কুয়ো। সেই সমস্ত কুয়ো গ্রীষ্মে শুকিয়ে যায়। তখন দূরবর্তী কুয়ো বা নদী থেকে জল বয়ে আনা ছাড়া উপায় থাকে না। গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, গ্রীষ্মকালে জল বয়ে আনার জন্যে যাতায়াত মিলিয়ে প্রায় ১২ ঘন্টা হাঁটতে হয়। মহিলারাই এই জল আনার কাজ করে থাকেন। প্রতিবার ১৫ লিটারের দু’টি কলসি বয়ে আনেন এসব মহিলারা।

এমতাবস্থায় এই গ্রামের পুরুষরা বুঝে গিয়েছেন, বহুবিবাহই জল সমস্যা মেটানোর সহজতম রাস্তা। বাড়িতে বউয়ের সংখ্যা যত বাড়বে তত বাড়বে জল আনার হাত ও কলসির সংখ্যা। কাজেই অনেকেই দু’টি কিংবা তিনটি স্ত্রী নিয়ে ঘর করছেন দেঙ্গানমলে।

ঘরের বউদের এই গুরুত্বের সুবাদে গ্রামে বিশেষ সম্মান পান বিবাহিত মহিলারাও। বিয়ের জন্য কন্যাসন্তান সম্পন্না বিধবা কিংবা বিবাহবিচ্ছিন্নাদের কদর বেশি। কারণ ঘরে কন্যাসন্তান আসা মানে ঘরের কাজকর্ম সামলাতে পারবে সেই মেয়ে।

বহুবিবাহ যে সমস্যার সমাধান নয়, তা মানছেন গ্রামবাসীরাও। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনের কাছে বহু আবেদন-নিবেদন করেছেন তাঁরা এই বিষয়ে। কিন্তু সরকার তাঁদের প্রতি উদাসীন। সূত্র : এবেলা

আরপি/ এএইচ

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.