বাঘের থাবা

বাঘের থাবা September 22, 2015 0 comments

-সম্বুদ্ধ

কান্তি চেীধুরী বললেন : তখন সোঁদরবন ছিল বাঘের আড্ডা। ঝোপে ঝাড়ে বাঘ গিসগিস করত। স্টীমার চলবার সময় নদীর দু’পাড়ে বাঘ এসে গজরে লাফিয়ে পড়ত। এখন আর সেই বাঘ নেই, মরে হেজে গেছে। যা দু-একটা এখন দেখা যায়, সে না-খেয়ে আধমরা। পূর্ব পুরুষের সে তেজ আর নেই।
একবার হল কি, তখন সবেমাত্র ওদিকে স্টীমার- লাইন খুলছে। বাঘের উপদ্রবে লাইন চলে না । লোকজন তো প্রাণ হাতে করেই  চলে। সে জন্য নয়, তাদের অভ্যেস আছে। কিন্তুু স্টেশন- ঘর অবধি বাঘের দৌরাত্ম্যে থাকে না। রাতারাতি হানা দিয়ে সব ভেঙেচুরে সারা করে দেয়।
আমি তখন ছুটিতে, সায়েবে চিঠি পেলাম, চৌধুরী শিগগির এস। যমের ডাক দেরি সয়, সায়েবের ডাক সয় না। টেলিগ্রাম পেয়েই রেলে চড়লাম। সোজা কলকাতায়।
সায়েবের বাড়ি পৌঁছে দেখি, সায়েব বসে আছে, তার সঙ্গে আর একটি সায়েব, ভূঁড়ি দেখলেই বোঝা যায়, বড় চকরি করে। আমার সায়েব তো আমাকে দেখেই লাফিয়ে উঠল, বাঁচালে চৌধুরী, তোমার জন্যই বসে আছি। বন্দুক এনছো তো?
বন্দুক ছাড়া আমি এক পা চলতাম না। বললাম, এনেছি। কেন বল তো?
সায়েব বললে, বলছি। অন্য সায়েবেটাকে চিনিয়ে দিয়ে বললে,ইনি হচ্ছেন মিঃ ক্র্যাস্প, সোঁদরবন মধ্য দিয়ে যে নতুন স্টীমার- লাইন হয়েছে,তার এজেন্ট। তোমার কাছে উনি সাহায্য চান।
বললাম কিসের?
ক্র্যাস্প সায়েব বললেন, বাঘ আমার সর্বনাশ করলে। পরশু খবর পেলাম, মীরপুর বলে একটা স্টেশন কে স্টেশন বাঘে খেয়ে ফেলেছে।
আমি বললাম মীরপুর আমি চিনি। বাঘে কি খেয়েছে ?
ক্র্যাস্প সায়েব বললে, সব। স্টেশনমাস্টার, সিগ্ন্যালের লালবাতি, টিকিটের বাক্স, মায় চেয়ার টেবিল সুদ্ধু।
আমার সায়েব বললে, তাই আমি ডেকেছি। বাঘ মারতে হবে। তুমি ছাড়া আর কারও কম্ম নয়।
ক্র্যাস্প সায়েব বললে, আমার লোকজনও গেছে সেখানে, তবু তোমার ওপরই আমার ভরসা। যদি পারো চেীধুরী আজন্ম তোমার কেনা হয়ে থাকব।
তথা¯ত্ত।- বন্দুক ঘাড়ে করে গিয়ে স্টীমারে উঠলাম।
মীরপুরে গিয়ে দেখি অবস্থা ভয়ানক। লোকজন ভয়ে ঘরের বার হয় না। চাষ আবাদ, বনের গাছকাটা সবএকদম বন্ধ।
আমার নাম শুনে সেখানকার শিকারীরা দেখা করতে এল। তাদের সর্দার ছিল কেতুলাল। লোকে বলত কালকেতু। কালকেতু বটে।বিরাট জোয়ান। সাড়ে চার হাত লম্বা, দেড় হাত চওড়া কাঁধ, দেহের প্রত্যেক সূতা লোহা দিয়া তৈরি। না জানে ভয়ডর,না জানে বিশ্রাম।একা হাতে বনে ঢুকে সে বােেঘর সাথে লড়াই করত। খেজুর গাছ- কাটা হেসোঁ দিয়া বাঘ মারত।
কালকেতু কে আমি আগে অনেক দেখেছি। তার সঙ্গে শিকারে গেছি। তাকে ভয় পেতে কখন দেখি নি। এবার দেখলাম যে সেই কালকেতু ভয় পেয়েছে। আমাকে বললে, দুঃসাহস করবেন না, এ বাঘ নিয়ে খেলা নয়। স্টেশনে বাইরে নরম মাটিতে বাঘের থাবার দাগ পওয়া গিয়েছিল। কালকেতু আমাকে নিয়ে দাগ দেখাল। মেপে দেখলাম, সোজাসোজি পাঞ্জা এগার ইঞ্জি হল। বাঘের থাবা এত বড় হতে পারে, এ কথা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয় না। চোখে দেখে বিশ্বাস হচ্ছিল না। বললাম কেতু, এ হয়তে সত্যি বাঘ নয়,কোন দুষ্টলোক দাগ বানিয়ে রেখেছে। বাঘের থাবা এত বড় হতে পাওে না। থাবাই যার এতখানি, সে বাঘ কত বড়?
কেতু বলল, বাঘ মিথ্যে নয়,আর লোক দেখেছে। কিন্তু এ বনে বাঘ নয় ,ডাইনি বাঘ। আমাদের  সাঁই গুনে বলছে, একে ঘাটতে গেলে আমার মাতা থাকবে না।
আমি বললাম, সেকি হে, তুমিও শেষে ভয় পেলে নাকি? তুমি বুড়ো হয় যাচ্ছ কেতু। কেতু বললে, বুড়ো হই নি কত্তা, আমি সেই কালতেুই আছি। কিন্তু দেবতার সঙ্গে গা- জোরি চলে না।
আমার তখন রোখ চড়ে গেছে। দেবতা- টেবতা শু তে চাই না, ও বাঘ আমার চাই। বড় বাঘ না হলে মেরে মজা কি বল। বন্দুক কিনেছি কি বনবেরাল মরাব বলে।
কেতু কম কথার মানুষ। বললে, যা বোঝেন। আমি কিন্তু ভাল বুঝছি না।
আমি বললাম, তোমার কিছু বুঝতে হবে না, বাড়ি গিয়ে টাঙ্গি বল্লম নিয়ে এস। মাথাই থাকবে না সাঁই,প্রান থাকবে না বলে নি।
কেতু বললে, বল¬ম টাঙ্গি সঙ্ঘে আছে। তবে বাড়িতে খবর টা দিয়ে যাই।
পাশে একজন ডেকে কেতু তার বাড়িতে পাঠালে। বললে, মহেশ, বউ বলবি, চাল যেন নেয় না হাঁড়িতে, বাঘের হাতে ধর যদি মারাই পড়ি। বেঁচে জীয়ে ফিরি তো তখন রাঁধলেই হবে। আমাকে বুঝিয়ে বললে, পূবদেশী মেয়ে কিনা, ওইটাই ভাল বোঝে ।
আমি বললাম, আর দেরি নয়,চল, “দূগা” বলে বেরিয়ে পড়া যাক।
বেরিয়ে তো পড়লাম।আমি কেতু, স্টীমার-কোম্পানির দুই সায়েব, আর শ-খানেক বীটার। পায়ে দাগ ধরে বনের মধ্যে ভাঙা গাছপালা চিহ্ন দেখে ঘুরে ঘুরে বাঘে খোঁজ করতে লাগলাম,বাঘ আর পাই না। সকালবেলা বের হয়েছি, দুপুর হেলে যায়,তবু ও বাঘ বের হয় না। সায়োবরা বললে, চৌধুরী, বাঘ নেই, তোমার নাম শুনে পালিয়েছে। চল, এবার ফেরা যাক। আসল কথা, ব্যাটাদের ক্ষিদে পেয়েছে।
আমি বললাম, সায়েব ফিরতে হয় তোমরা ফিরো,আমি বাঘ না মেরে ফিরব না। কেতু আমার কথা তে সায় দিলে।অগ্যাত সায়েব রা মূখ চুন করে রইল, ফেরার নাম আর করলে না।
ঘুরতে ঘুরতে আর বন ঠ্যাঙাতে ঠ্যাঙাতে বেলা যখন প্রায় চারটে হবে, তখন বাঘে দেখা পেলাম।
কেতু সক্কলের আগে আগে যাচ্ছিল, তার হাতে বল¬ম।তার একটু পিছনে ছিলাম আমি  আর সায়োব দুটো। আর একটু পেছনে একদল শিকারী। সামনে একটা ছোট জোপ, উঁচু নয়, কিন্তু পাতায় লতায় ঠাসা। অতটুকু ঝোপে মধ্যে বাঘ বসে আছে, কেউ ভাবেনি। কেতু ও না। তায় আবার হাওয়া বইছিল আমাদের পিছন থেকে, বাঘের গায়ে গন্ধ ও আমরা পাইনি। ঝোপটার পাশ দিয়ে যেতে যেতে কেতুর হঠাৎ কি খেয়াল হল, হাতে বল্লম দিয়ে দিল ঝোপে মধ্যে এক খোঁচা। বাস্ আর যায় কোথা! ঘাঁক করে বাঘ লাফিয়ে উঠে দু হাত তাকে একবার জড়িয়ে ধরল। কেতু প্রথমে ভড়কে, গেল, বল্লম হাত থেকে পড়ে গেল।কিন্তু সাহস, সঙ্গে সঙ্গেই সামলে নিয়ে এক হাঁক দিলে, খবরদার!
এনে হল বাঘের গর্জনের চাইতেও আকাশ-ফাটা গর্জন কেতুর। তারপরই দেখলাম দুজন জড়াজড়ি করে মাটি গড়াচ্ছে কেতু দুহাত দিয়ে বাঘকে জড়িয়ে ধরছে।
অমার পেচনে সায়েব দুইটি ভয় কাঁপছে। আমি বন্দুক তুললাম। কিন্তু গুলি ছুঁড়লে কেতুকে লাগবার ভয়।
কেতু চেচিয়েঁ বলল হুজুর, গুলি করুন, দেরি করবেন না, ব্যাটারগায়ে বেজার জোর, ধরে রাখতে পারছি না।
আমি বললাম, তোমার গায়ে লাগবে।তুমি এক কাজ কর, আমার চট করে খানিটা পিছিয়ে যাই, তারপর তুমি বাঘ কে ছেড়ে দাও। আমাদের তারা করে খোলা জায়গায় এলেইগুলি করব।
কেতু বললে অত সময় নেই, আপনি গুলি করুন। আমার জন্য ভাববেন না, আমার প্রাণ এমনি গেছে। মাথাটা সাবড়ে দিয়েছে একবারে।
বলতে বলতে হঠাৎ ধস্তাধস্তি থেমে গেল।লম্বা ঘাসের মধ্যে দুইজন বলে আমরা স্পষ্ট কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। ইবার হঠাৎ ঘাস বনের ওপরে বাঘের মাথাটা জেগে উঠল। কেতু নীচেয় পড়েছে, বাঘ তার ওপর চেপে বসে আমাদের কে দেখছে। আর দেরি নয়।বন্দুক তুলে বসালাম মাথা সই কওে এক গুলি। গুলি খেয়ে বাঘ ভয়ানক গর্জন করে লাফ দিলে,আমি সেই লাফের ওপরেই আরেক গুলি বসালাম। সায়েবরা গুলি ছুড়ল।
বাঘ মাটিতে পড়ল,কেতু আর আমাদের মাঝখাটায় খোলা জমি তে। পড়ে আর উঠতে পারলাম না শুয়েই ছটফট করতে লাগল।তখন আর দুইটি গুলি বসিয়ে ঠাণ্টা করে দিলাম।
বাঘটাকে মেপে দেখেছিলাম, ল্যাজসুদ্ধ চোদ্দ হাত। এতবড় বাঘ আমি আর কখন দেখিনি।
আমরা বললাম কেতু কি হল?
কান্তি চেীধুরী বললেন, বলছি সবই।কেতু ভেবেছিলাম মরেই গেছে। তারপর কাছে গিয়ে দেখি, মরে নি অজ্ঞান হয়ে আছে।
কিন্তু সে মরারই দাখিল। আমাকে বলেছিল, মাথা সাবড়ে দিয়েছে; দেখলাম এখটু ও মিথ্য বলে নি। ধস্তাধস্তির মধ্যেকোন একফাকে বাঘ তাকে এক মোক্ষম থাবা বসিয়েছে,থাবা চটে তার মাথার খুলি দুই কানের বরাবর ফেটে চৌচির হয়ে গিয়ে মাথার ওপরদিককটা খাবরাটা একেবারে উড়ে চলে গেছে।
সায়েবদের সঙ্গে ব্র্যাগিুও বোতল ছিল।তাই খাইয়ে একটু তাজা করলাম। তারপর সেই অবস্থায় তাকে নিয়ে স্টেশনে ফিরে এলাম।
তখন অমাদের যা অবস্থা, বুঝতে পার। বনের মধ্যে না আছে ডাক্তার, না আছে ওষুধপত্তর, সম্বলের মধ্যেক শিশি টিংচার আইডিন, আর সায়োবদেও বোতলে ব্র্যাগিু। তাই একটু  করে জীইয়ে রাখতে লাগলাম। মাথার খাবরা উড়ে গেলেও, কি ভাগ্যস্ ঘিলুটায় চোট লাগেনি। ঘিলুর ওপরে একটুকরো কচি কলাপাতা বিছিয়ে রুমাল দিয়ে বেঁধে।
সায়েবরা স্টোভ জ্বেলে চা আর হালুয়া করতে বসল।
ঘণ্টাখানেক পরে, কেতুর জ্ঞান হল। কাঠপ্রাণ একেই বলে, চোখ চেয়ে প্রাণ একেই বলে, চোখ চেয়ে প্রথম কথাই বললে,বাঘ মরেছে।
ঊললাম, মরছে। উঠো না শুয়ে থাক ।
কেতু বললে, ভেতরটা আছে। বাইরেটা নেই।
কেতু যেন একটু অন্যমনস্ক হয়ে বললে, সাঁই তখুনি বলেছিল! -বলে খনিকক্ষ চুপ করে পড়ে রইল। অনেকক্ষ পরে আবার চোখ খুলে বললে,মহেশ কই?বউকে বলে এসেছে?
আমি বললাম মহেশ তো যায় নি।
কেতু চমকে উঠে বললে, সর্বনাশ!-বলে উঠে বসতে গেল। আমরা ধরে রাখলাম। কিন্তু রাখা কি যায়! কেতু আমার দিকে চেয়ে বললে, মাথায় একটা পাগড়ি বেঁধে দিন তো ঠেসে। টনটন করছে। তারপরও বাড়ি যাই।
আমরা বললাম, এখন বাড়ি যায় না। মাথার খুলি নেই, যাবে কি করে? রোদে ঝাকেঁ ঘিলু গলে যাবে।
কেতু বললে, যায় যাবে। ওদিকে কেলেষ্কারি বেঁধে বসে আছে, তার ঠিক নেই। একে বেলা, তায় ভাত রেধেঁ রেখেছে। এখন কি ঘিলু সামলাবার নয়?
সে যুদ্বু! আমারও তাকে উঠেতে দোবস না, সেও যাবেই। শেষ পর্যন্ত ক্ষেপে গেল। বললে, খুলি নেই খুলি নেই সেই কবে থেকে শুনছি। তা করছে কে কি? খুলি তো আর চামরা নয় যে ফের গজাবে!
আমি দেখলাম, বিপদ। এই অবস্থায় যদি মেজাজ খারাপ করে মাথায় রক্ত চড়িয়ে বসে, তবে আর রক্ষা নেই। বললাম দাঁড়ায় আমি ব্যবস্তা করছি।
আমার মাথাটার এই একটা মজা দেখেছি, বিপাকে পড়লেই আমার চমৎকার বদ্ধিু গজায়। কি উপায় করি বল, ভাবতে ভাবতে ঘর থেকে বারান্দায় এলাম। বারান্দায় বেরুতে চোখে পড়ল ঘরের পাশে কাটা নারিকেল গাছ। বাস্ আর আমাকে পায় কে! একটা বেটাওে বললাম গাছে উঠ। বেশ কছি ও বড় দেখে একটা ডাব পাড়বি এক ছড়া।
ডাব পাড়া হল। একটা ডাব কেটে তার মালার আধাখানে চেছেঁ ঠিক করে কেতুর মাথায় বসিয়ে দিলাম, দিব্যি কাপকোপ বসে গেল। সায়েবদের সাথে সুজি ছিল, ভিজিয়ে রোলাম করে কেতুর নতুন খুলি জুড়ে দিলাম, মাতা বেমালুম আস্ত হয়ে গেল। বুনো জাত কিনা, ওদের একটুকানি ওষুধপত্তর পড়লেই অদ্ভুত রকম কাজ দেয়।
কেতু উঠে বসল। তারপর দাড়াল। তারপর বললে, এবার বাড়ি যাই।
তার সঙ্গে দুইজন মানুষ দিলাম, বাড়িই পৌছেঁ দেবার জন্য। তাকে বলে দিলাম, এখন কিছুদিন মাথা গরম করবে না। বউ ঝগড়া করলেও সয়ে যাবে ।রোদে বের হবে না । আর রোজ বেশ করে সরষের তৈল মাখবে। তেলে পেকে খোলা পোক্ত হয়ে যাবে।
ঠিক তাই হল।
এর বছর দুই পরে, কেতুর সঙ্গে আমার দেখা হয়। দেখলাম, তেল- চুকচুকে টাকটি গামছা ঢাকা দিয়ে দিব্যি ঘুরে বেরাচ্ছে।“কেমন আছ”? শুধু তে হেসে বলল যে ভাল আছি। টাক হয়ে বরং ভালো হয়েছে, উকুন খায় না। তেল কম লাগে। ওঃসে যা তার টাক, যদি দেখতিস! আমার টাক কোথায় লাগে তার কাছে! যেন তাজমহলের গম্বুজ, অবিশ্যি কালো রঙের।
আমরা বললাম, কিন্তু টাক হয়ে রইল বেচারীর, কেশরঞ্জন মাখিয়ে দেখতে হত না। কান্তি চেীধুরী বললেন, বলেছিলাম। মেখেওছিল দিন কত। তা গজাল গুচ্ছের নাকেলের আঁশ। তাই শেষ টা কেতু আর মাখে নি। বলছে থাক্, আমার টাকই ভাল।

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.