প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি বিরিশিরি

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি বিরিশিরি October 8, 2015 0 comments

রঙিন ডেস্ক: কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান জাফলং এখন আর ভাল লাগেনা কিংবা ভাবছেন নতুন কোনো ভ্রমন স্থান নিয়ে? চলে যান নেত্রকোনার দুর্গাপর আর বিরিশিরি।

নেত্রকোনার একেবারে উত্তরে ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের কোল ঘেঁষে অপরূপ শান্ত ছোট্ট জনপদ দুর্গাপুর আর বিরিশিরি। কংশ নদ আর সোমেশ্বরী নদী বয়ে গেছে বিরিশিরির গা ঘেঁষে। অদ্ভূত সুন্দর নীল পানির লেক আর সবুজের প্রাচুর্য চোখ জুড়িয়ে দেবে নিমিষেই।

বিরিশিরির মূল আকর্ষণ চীনামাটির পাহাড়, যার বুক চিরে চলে গেছে অবাক সুন্দর নীলচে-সবুজ পানির হ্রদ। শরতে নীল আকাশ আর সাদা মাটির পটভূমি জলের রঙকে আরও গাঢ় করে দেয়। আর একটু দূর দিগন্তে দেখা যায় গারো পাহাড়ের সবুজ বনের সারি।

প্রকৃতি তার ঝুলি উজাড় করে দিয়েছে এ গারো পাহাড় সাজাতে। চারপাশে যেন সবুজের সাম্রাজ্য। পাহাড়ের অসমতল উঁচুনিচু টিলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে ঝরণা। দুই পাহাড়ের মাঝে মাঝে সমতল ভূমি। তার মাঝে সবুজ ফসলের ক্ষেত। কোথাও সবুজ টিলার উপর ছোট কুঁড়ে ঘর। আর সবুজ গাছের ফাঁকে নীল আকাশ। পাহাড়, নদী, শাল-গজারি আর অপূর্ব সুন্দর প্রকৃতি মিলিয়ে এ যেন বাংলার ভূস্বর্গ।

বিরিশিরিতে দেখার মতো আরও রয়েছে রানীখং গির্জা, কমলা রানীর দীঘি এবং সোমেশ্বরী নদী আর কংশ নদ। বর্ষায় সোমেশ্বরীর তীরবর্তী বিরিশিরির সৌন্দর্য বেড়ে যায় অনেক। মেঘালয়ের পর্বতরাজি থেকে নেমে আসা সবুজ আর উত্তাল পাহাড়ি ঢল বর্ষায় বিরিশিরি ঘুরতে আসা পর্যটকদের দেখায় তার বন্য সৌন্দর্য।

যাতাযাত ও থাকা:
ঢাকা থেকে নেত্রকোনা হয়ে বিরিশিরি যাওয়ার চাইতে ময়মনসিংহ থেকে বিরিশিরি যাওয়া সহজ। ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ (বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু) থেকে একঘণ্টা পর পর বিরিশিরি যাওয়ার বাস ছাড়ে। ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকেও সরাসরি দুর্গাপুর যাওয়ার বাস ছাড়ে। এছাড়া ট্রেনে ময়মনসিংহ গিয়ে সেখান থেকে বাসে বিরিশিরি যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে যাওয়ার জন্য বিআরটিসি আর ইকোনোর বাসগুলো ভালো।

তবে ঢাকা থেকে সুসং দুর্গাপুরে যাওয়া এবং ফেরার জন্য রাতের বাসই ভালো। রাত ১২ টায় মহাখালী টার্মিনাল থেকে রওয়ানা হলে ভোর পাঁচটার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন। নির্ঝঞ্ঝাট এবং নিরাপদ ভ্রমণের জন্য এটাই সবচেয়ে ভালো সাজেশান। এরপর দুর্গাপুরের তালুকদার প্লাজার সামনে থেকে সারাদিনের জন্য বাইক ভাড়া করে (ভাড়া ৮০০/১০০০) সবকিছু দেখে আবার নাইটকোচে ফিরতে পারবেন।

থাকতে চাইলে সেই ব্যবস্থাও আছে। দুর্গাপুরে থাকার জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা হলো ইয়ুথ মেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়াইএমসিএ) রেস্ট হাউস। এখানকার রুম ভাড়া ১০০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। এসি (ডাবল): ১০০০ টাকা, নন এসি (ডাবল): ৪৬০ টাকা এবং সিঙ্গেল রুম: ৩৫০ টাকা। যোগাযোগ: অন্তু ০১৭৪৩৩০৬২৩০, বিপ্লব ০১৭১৬২৭৭৬৩৭।

এসএল/এএইচ

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.