দেখে এলাম বোয়াইল্যা ঝর্ণা

দেখে এলাম বোয়াইল্যা ঝর্ণা October 30, 2015 0 comments

রঙিন ডেস্ক: ঘুরে বেড়াতে কার না ভালো লাগে? একটু সুযোগ পেলেই আমরা ছুটে যাই এখানে-সেখানে। তবে অনেকেই বলেন বাংলাদেশে কোনো সুন্দর ঘোরার জায়গা নেই।

কিন্তু এটা একটা সম্পূর্ন ভুল ধারনা। বাংলাদেশে এতো অসাধারন সব পর্যটন ক্ষেত্র রয়েছে যেগুলো না দেখলে বিশ্বাস হয় না।

যারা ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য আমাদের আয়োজন। অবসরে দেখে আসতে পারেন মিরসরাইয়ের একেবারেই ভিন্ন ধরনের একটি ঝর্ণা বোয়াইল্যা ঝর্ণা। এই ঝর্ণাটি দেখে নিঃসন্দেহে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মন ভালো হয়ে যাবে।

পাহাড়ের শরীর বেয়ে অধর্গোলাকৃতিভাবে ঝড়ে পড়ছে দুধসাদা ঝর্ণার পানিরাশি। বর্ষার সময় ঝর্ণার পানি বেশি। এসময় এর সৌন্দর্য থাকে দ্বিগুন।

বোয়াইল্যা ঝর্ণার নিচে দুলাল খান

বোয়াইল্যা ঝর্ণার নিচে দুলাল খান

দূর থেকে শুধুমাত্র এর একাংশই দেখা যায়। আপনি যদি অতটুকু দেখেই ফিরে আসেন তাহলে মিস করবেন অনেক কিছু। ঝর্ণার আগে লম্বা একটা সুরঙ্গপথ আছে। প্রায় বুক সমান পানি আর পাথুরে পথ। এই পথটুকু দিলে আপনি এমন অভাবনীয় দৃশ্য দেখবেন যা দেখে আপনি নির্বাক হয়ে যাবেন। এমনটাই জানালেন ভ্রমণপ্রিয় মানুষ দুলাল খান।

তিনি বলেন, ‘এই পথে ক্যা মেরা নিয়ে যাওয়া ছিলো খুবই ঝুকিপূর্ণ। তারপরও এর রূপ দেখে আর স্থির থাকতে পারিনি। মনে হচ্ছিল এমন দৃশ্য ক্যা মেরাবন্দী না করলে আফসোসটা সারাজীবন থেকেই যাবে। তাই ঝুকিপূর্ণ পথ দিয়ে সুরঙ্গপথ অত্রিক্রম করে ঝর্ণার পুরো সৌন্দর্য দেখে পরিতৃপ্তি নিয়ে ফিরেছি।’

দুলাল খান বলেন, ‘এখন অক্টোবর মাস, তাইন পানি খুব বেশী নেই। তারপরও যথেষ্ঠ। তাহলে বর্ষায় এর কি চেহারা হয় ভাবতেই শিহরণ জাগে।

বোয়াইল্যা ঝর্ণায় যাওয়া এবং থাকা জায়গা প্রসঙ্গেও কিছুটা ধারণা দিয়েছেন দুলাল খান। তার ভাষ্য,  মিরসরাই হতে সিএনজি নিয়ে রেল ক্রসিং পার হয়ে সামান্য একটু এগুলেই যান্ত্রিক যাত্রা শেষ। এরপর কেবলই হাটা। অসাধারণ গ্রামীন পরিবেশ পার হয়েই ঝিরিপথ। পুরো ট্র‍্যাকিংয়ের ৯০ শতাংশ সময়ই ঝিরিপথ ধরে পা ভিজিয়েই হাঁটতে হবে। সুতরাং ট্রাকিংয়ের সময় গ্রিপওয়ালা স্যান্ডেল পরাই ভালো। দু’ধারের বন আর পাথুরে ঝিরিপথ যেমন অসাধারণ আর লোভনীয়, ঠিক তেমন ঝুকিপূর্ণ। প্রায় পুরোটা পথই শেওলা জমা পাথরে ভরপুর। একটু উনিশ-বিশ হলেই দুর্ঘটনা।

ঝর্ণার নিচে বসে বিমোহীত এক পর্যটক। ছবি- দুলাল খান

ঝর্ণার নিচে বসে বিমোহীত এক পর্যটক। ছবি- দুলাল খান

বোয়ালিয়া যেতে খুব বেশী সময় লাগে না। ঘন্টা দুই হাঁটলেই বোয়াইল্যা। অনেকে ভাবতে পারেন শুধু ঝর্ণা দেখতে এত হাঁটা! কিন্তু আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি ঝিরি পথ আর ঝিরি পথের ক‍্যাসকেডগুলো আপনি অবশ্যই উপভোগ করবেন। আর পথ আসলে এখানেই শেষ নয়। মূল ট্রেইলটা দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। ডানদিকের ট্রেইলে বোয়াইল্যা এবং বাম দিকের ট্রেইল ধরে হাটলে উঠান ঝর্ণা এবং বাউস্যা ঝর্ণা।

শুধু বোয়াইল্যা দেখে ফিরে না এসে উঠান এবং বাউস্যা দেখে আসাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কারণ এমন সুযোগ প্রতিদিনই আসবে না। যাবার আগে একটা জিনিস মাথায় রাখা ভালো, মিরসরাইতে থাকার কোনো হোটেল নেই। সিতাকুন্ডে ২টা বোডিং আছে, যার মান খুব একটা ভালো না। আর আছে ফায়ার সাভির্সের একটি ডাক বাংলো। ডাক বাংলোতে থাকতে পারলে ভালো হয়। তবে সীতাকুন্ড থেকে মিরসরাই প্রায় ১৪ কিলো। সুতরাং সব চাইতে উত্তম হল গাইডের সাথে কথা বলে মিরসরাই স্থানীয় কোনো বাড়ীতে আশ্রয় নেয়া। টাকার বিনিময়ে এখানে থাকা যায়।

এসএল/এএইচ

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.