তিন পেরিয়ে সরকারের চতুর্থ বর্ষে পর্দাপন

তিন পেরিয়ে সরকারের চতুর্থ বর্ষে পর্দাপন 0 comments

রঙিন ডেস্ক : আজ ১২ জানুয়ারি।শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন টানা দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারের তিন বছর।নানান ঘাত-প্রতিঘাত ও সাফল্যের মধ্যে দিয়ে সরকার তিন বছর পার করে চতুর্থ বর্ষে পর্দাপন করলো।২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে জিতে পুণরায় সরকার গঠন করে ১৪ দলীয় জোট। ১২ জানুয়ারি জোট সরকার শপথ গ্রহণ করে।

সরকারের তিন বছর পূর্তিতে আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

গত ৪ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসবভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এবং উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ পুনরায় আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিয়েছে বলেই আমরা উন্নয়নের গতি এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি। এখন দেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে। মানুষ তার সুফল ভোগ করছে।

এই তিন বছর আমরা অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করেছি। দেশের উন্নতি হয়েছে। আমরা যে উন্নয়নের কাজ শুরু করেছিলাম, জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত করে সেই উন্নয়নের কাজের গতিটা ধরে রাখতে সুযোগ দিয়েছে। মানুষ তার সুফল ভোগ করছে। মানুষ আজ অনেক সুখে শান্তিতে আছে।

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের সুবিধাপ্রাপ্তির উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত সফলভাবে কোনো সরকার দেশ চালাতে পারেনি। যেটা আমরা করতে পেরেছি। দেশ আজকে আন্তর্জাতিক উন্নয়নের রোল মডেল। বিশ্বের কাছে বিস্ময়।

সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এক বছরের ব্যবধানে ৫৮তম স্থান থেকে ১৪ ধাপ এগিয়ে এখন ৪৪তম অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৬ সালে ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলার হয়েছে। মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭১ বছরে উন্নীত হয়েছে। গত ছয় বছরে গড় প্রবৃদ্ধি ৬.৩ শতাংশ। এ বছর ৭.০৫ শতাংশ হবে। আগামী বছরের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭.২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে গড় মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশ। এপ্রিল মাসে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৫.৬১ শতাংশ। এখন মূল্যস্ফীতি ১০ বছরে মধ্যে সর্বনিম্ন- মাত্র ৫.৪৫ শতাংশ। বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ৩১.০২ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্র ১০০টির ওপরে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এখন প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট। ৭৮ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে এবং রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে। মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে। এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে। আগামী ২০২১ সালের আগেই ১০০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় আসবে বলে সরকার সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়ে সরকার শত বাধা ও চাপ উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। ইতিমধ্যে কাদের মোল্লার পর কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামান, সাকা চৌধুরী, মুজাহিদ, মতিউর রহমান নিজামী, আবুল কাশেমের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।জাতির পিতা প্রণীত ১৯৭৪ সালের প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে আর্মড ফোর্সেস গোল-২০৩০ নির্ধারণ করেছে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ঘোষণা করেছে।

এএইচ

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.