জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলামের জন্মদিন

জাতীয় কবি কাজি নজরুল ইসলামের জন্মদিন May 25, 2016 0 comments

রঙিন ডেস্ক : আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ। প্রেম, মানবতা ও বিদ্রোহের প্রতীক আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মদিন। নজরুল একদিকে ছিলেন বিদ্রোহী, অন্যদিকে মানবতাবাদী। তাঁর গান জাতিকে জাগরণের পথে প্রেরণা যুগিয়েছে। ইসলামী গানের পাশাপাশি তিনি শ্যামাসঙ্গীত রচনা করেছিলেন। কোথাও উদার মানবতাবাদকে বিসর্জন দেননি। নজরুল সারাজীবনই মানবতার সাধনা করেছেন।

১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের চুরুলিয়া গ্রামে এই মহান কবির জন্ম। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে তিনি শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের যখন আবির্ভাব তখন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এ দেশের সাহিত্যে এক বিশাল মহীরুহের মতো অবস্থান করছিলেন। সে সময় খুব কম কবিই রবীন্দ্র প্রভাব এড়িয়ে কাব্যচর্চায় সাফল্য পেয়েছিলেন।

কাজী নজরুল ছিলেন সেই মুষ্টিমেয় কবির একজন, যিনি রবীন্দ্র প্রভাবের বাইরে বাংলা কবিতায় এক নতুন যুগের সূচনা করেন। তখন ভারতসহ পৃথিবীর নানা দেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। এমন অবস্থায় নজরুল প্রকৃতপক্ষে গোটা ঔপনিবেশিক ব্যবস্থাকেই চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

এদিক দিয়ে নজরুল একক এবং অনন্য। বিশ্বসাহিত্যে তার মতো কবি খুব কম। তবু কেউ কেউ কাজী নজরুলের সঙ্গে রুশ কবি মায়াকোভস্কি ও তুরস্কের কবি নাজিম হিকমতের কাব্যের মিল খুঁজে পান। সব মিলিয়ে নজরুল এক বহুমুখী প্রতিভা।

তার কবিতা, গান ও গদ্য উপমহাদেশের মানুষকে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছে। একজন সাংবাদিক হিসেবেও নজরুল অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। তার সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’ গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে। ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা রচনার জন্য কবি রাজদ্রোহের অপরাধে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিস্ময়কর প্রতিভা নজরুল কখনই ধনসম্পদের প্রতি আগ্রহী ছিলেন না। বলা চলে দারিদ্র্য ছিল তার চিরকালের সঙ্গী। তিনি জগতের দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের দুঃখ-কষ্ট গভীরভাবে অনুভব করেছিলেন। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে হঠাৎ করেই তার সাহিত্য সাধনা স্তব্ধ হয়ে যায়। এরপর তিনি দীর্ঘকাল বেঁচেছিলেন। কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা-গান ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অন্যতম প্রেরণা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবিকে সসম্মানে ঢাকায় নিয়ে আসেন এবং তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির সম্মান দেন।

বাংলাদেশে তার অনেক স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে। তার সাহিত্যকর্মের উপজীব্য বিষয়গুলোও অনেকখানি এই বাংলাকেন্দ্রিক। বাংলাদেশে তার স্মৃতিবিজড়িত বেশ কয়েকটি স্থান রাষ্ট্রীয় তদারকিতে সংরক্ষিত হয়েছে। ঢাকায় নজরুল ইনস্টিটিউট, ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ বিভিন্ন স্থানে কবি নজরুলের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়েছে। তার পরও বলতে হয়, নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত দুই বাংলায় এখনও তাঁর পূর্ণাঙ্গ জীবনী রচিত হয়নি।

দুই বাংলায় নজরুল বিষয়ক বহু গবেষক আছেন, তাকে নিয়ে অনেক গবেষণাও হয়েছে। গবেষকরা নজরুলের পূর্ণাঙ্গ জীবনীর ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারেন। রাষ্ট্রীয়ভাবেও এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এটা আমাদের দায়িত্ব। মনে রাখা দরকার, নজরুল শুধু বাংলাদেশের সম্পদ নন, তিনি সমগ্র মানবজাতির সম্পদ।

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কবির অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তার সমাধি রচিত হয়।
আরপি/ এএইচ

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.