জমে উঠছে বাণিজ্য মেলা

জমে উঠছে বাণিজ্য মেলা 0 comments

রঙিন প্রতিবেদক : সকালের শিশির কাটিয়ে সুর্য তেজ বিকিরণ করতে শুরু করছে।ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ঢুকে কিছুটা হতাশই হতো হলো, লোকজন কোথায়।মেলা তো ফাঁকা। ফাঁকা মেলাতেই ফটোগ্রাফারকে নিয়ে ঘুরে ঘুরে মেলা দেখতে লাগলাম।মেলা এমন ফাঁকা কেন একজন নিরাপত্তা কর্মীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গতকাল শুক্রবার মেলায় প্রচুর লোক সমাগম হয়েছিল।আজও লোক হবে তবে বিকেলে। বলা যায় ধীরে ধীরে জমে উঠেছে বাণিজ্য মেলা।

গতবার রাজনৈতিক সংহিসতার কারনে বাণিজ্য মেলায় লোক সমাগম ছিল অন্যন্ন বারের তুলনায় কম। তবে এবার লোক সমাগম হবে বলে বিশ্বাস করেন স্টল মালিকরা।

একটি বিদেশী জুয়েলারী স্টলে ক্রেতাদের ভীড় - ছবি : মহিতুজ্জামান সনেট

একটি বিদেশী জুয়েলারী স্টলে ক্রেতাদের ভীড় – ছবি : মহিতুজ্জামান সনেট

মেলা ঘুরে দেখা যায় অনেক বিদেশী স্টল এখনো তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসতে পারেননি।কারণ স্টলের কাজই শেষ করতে পারেননি।মেলায় দেখা গেল অনেক বিদেশী প্যাভেলিয়ান।এর মধ্যে থাইল্যান্ড, ইরান এবং তুর্কি প্যাভেলিয়ানে ভীড়ও লক্ষ করার মতো।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করে মানুষের ভিড়। শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণায় মুখর হতে শুরু করে মেলাপ্রাঙ্গণ।

মেলায় ছোট স্টল থেকে শুরু করে প্যাভিলিয়ন, শিশুপার্ক, ইকোপার্ক, খাবারের দোকান সবখানেই রয়েছে দর্শনার্থীর আনাগোনা।। স্টলের বিক্রয়কর্মীরা পণ্যের গুণাগুণ জানাতে ব্যস্ত, আর দর্শনার্থীরা ব্যস্ত তাদের পছন্দসই জিনিস কিনতে।

প্রথম পুরস্কার একটি ন্যানো গাড়ি -: ছবি মহিতুজ্জামন সনেট

প্রথম পুরস্কার একটি ন্যানো গাড়ি -: ছবি মহিতুজ্জামন সনেট

তবে মেলায় অন্য পণ্য কেনার চেয়ে বাসাবাড়িতে ব্যবহার্য বিদেশি তৈজসপত্র কেনার আগ্রহ বেশি ছিল ক্রেতাদের। বিদেশি স্টলগুলোর মধ্যে ইরানি স্টলে কার্পেটের চাহিদা বেশি। ৩ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে পছন্দনীয় কার্পেট। তুর্কি প্যাভেলিয়ানে ঝাড়বাতি, টেবিল ল্যাম্প, তৈজস জিনিসপত্রের প্রতি আগ্রহী অনেকে। এছাড়া কাশ্মিরি শাল, ওভেন, ননস্টিক হাঁড়ি-পাতিল, প্রেসারকুকার, হটপটসহ নানা তৈজসপত্রের চাহিদা ছিল ক্রেতাদের কাছে।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্লাস্টিক পণ্যের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের মোটামুটি ভিড় লক্ষ করা। এ ছাড়া ইমিটেশনের গয়না, কসমেটিকস, অ্যালুমিনিয়ামের সামগ্রী, গৃহস্থালি সাজসজ্জা, ইলেকট্রনিক পণ্যসামগ্রী ও শিশুদের খেলনার দোকানগুলোতে ভিড় ছিল লক্ষণীয়।

ইরানী স্টলে পছন্দের পণ্য দেখছেন ক্রেতারা -ছবি : মহিতুজ্জামান সনেট

ইরানী স্টলে পছন্দের পণ্য দেখছেন ক্রেতারা -ছবি : মহিতুজ্জামান সনেট

রামপুরা থেকে সপরিবারে মেলায় এসেছেন মমতাজ হোসেন। মেলা ঘুরে ঘুরে বাচ্চার জন্য টিফিনবক্স দেখছেন। তিনি বলেন, একই জায়গায় মনমতো কেনাকাটার জন্য বাণিজ্যমেলার বিকল্প নেই। তবে মেলাতে আসার প্রধান কারণ হচ্ছে গৃহসজ্জার জিনিসপত্র কেনা। পাশাপাশি ছেলের জন্য টিফিনবক্স, স্কুলব্যাগ, হটপট কেনার ইচ্ছা আছে। মেলার শেষের দিকে ভিড় বেড়ে যায় এ জন্য প্রথমেই এসেছেন। পছন্দ ও দামদর ঠিকঠাক হলে কিনবেন।

অন্যদিকে বিদেশি গয়না কিনতে ধানমন্ডি থেকে মেলায় এসেছেন সুমনা হক ও তার বোন অনিতা। তারা বলেন, প্রতি বছর মেলায় বিদেশি গয়না কেনার জন্য আসেন তারা। মেলা ঘুরে দেখছেন। মেলা থেকে বের হওয়ার আগে ইচ্ছানুযায়ী কিছু কেনাকাটা করবেন তারা।

তুরস্কের একটি স্টল : ছবি - মহিতুজ্জামান সনেট

তুরস্কের একটি স্টল : ছবি – মহিতুজ্জামান সনেট

বাবার সঙ্গে মেলায় এসেছে সাত বছরের সাদিয়া জাহান। তার বাবা শফিক আহমেদ বলেন, ভিড় এড়াতে তিনি দুপুরে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। মেলায় ঘোরাঘুরি করাই মূল উদ্দেশ্য। তবে এবারের মেলায় বাচ্চাদের রাইড বেশ কম বলে তিনি মনে করেন। বাচ্চাদের জন্য মেলায় আরো কিছু ব্যবস্থা করা উচিত। মেয়েকে মেলার শিশুপার্কের কয়েকটি রাইডে চড়িয়ে, কিছু কেনাকাটা করে সন্ধ্যার আগেই মেলা থেকে বের হবেন। কারণ বিকাল থেকে ভিড় বাড়তে থাকবে, তখন যানবাহন পেতে বেশ সমস্যা হয়।

মেলায় শিশু কিশোরদের জন্য বিভিন্ন রাইড : ছবি - সনেট

মেলায় শিশু কিশোরদের জন্য বিভিন্ন রাইড : ছবি – সনেট

উল্লেখ্য, এ বছর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ১৩টি ক্যাটাগরিতে মোট ৫৫৩টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি প্রিমিয়ার, ১০টি জেনারেল, ৩টি রিজার্ভ ও ৩৮টি ফরেন প্যাভিলিয়ন। এ ছাড়া, ৩৬টি প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন, ১৩টি জেনারেল মিনি প্যাভিলিয়ন, ৬টি রিজার্ভ মিনি প্যাভিলিয়ন, ২৫টি ফুড স্টল ও ৫টি রেস্টুরেন্ট রয়েছে এবারের বাণিজ্যমেলায়। মেলায় বিশ্বের ২১টি দেশের মধ্যে নতুন দেশ হিসেবে অংশ নিয়েছে মরিশাস ও ঘানা। তবে এ দুটি দেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, চীন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, থাইল্যান্ড, ব্রিটেন, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, জাপান, আরব আমিরাতের মিলে প্যাভিলিয়ন রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এ মেলা চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

এএইচ

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.