আউটসোর্সিং নিয়ে কিছু তথ্য

আউটসোর্সিং নিয়ে কিছু তথ্য 0 comments

রঙিন ডেস্ক: কাজের ক্ষেত্র নিয়ে গত কয়েক দশকে সারা বিশ্বে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সৃজনশীলতার প্রকাশ দেখা গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সৃষ্টি হয়েছে নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র। এ রকমই একটি কাজের ক্ষেত্র হলো আউটসোর্সিং। সম্প্রতি আমাদের দেশেও কর্মক্ষেত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন এক সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে আউটসোর্সিং। সহজ কথায় আউট সোর্সিংহলো কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজ বাইরে থেকে করিয়ে নেওয়া। তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে আউটসোর্সিংয়ের কাজ হয় বেশি। আর এ কাজটাও করতে হয় মূলত কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে। ব্যক্তিগত পর্যায় থেকেই এ কাজ শুরু করা যায়। আউটসোর্সিংকীভাবে শুরু করা যায়, তা নিয়েই এ প্রতিবেদন।

আউটসোর্সিং কী?: অনেক দিন ধরেই মুক্ত পেশাজীবী (ফ্রিল্যান্সার) হিসেবে আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত জাকারিয়া চৌধুরী।তিনি বলেন, খুব সাধারণভাবে বলতে গেলে কোনো প্রতিষ্ঠান যখন তাদের কাজ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে দিয়ে করায়, তখন তাকে আউটসোর্সিং বলা যায়। আমাদের দেশে যে পদ্ধতিতে আউটসোর্সিং করা হয়, তাকে অফশোর বলে। এর মাধ্যমে এক দেশের প্রতিষ্ঠান অন্য দেশ থেকে কাজ করিয়ে থাকে।

কী কী কাজ করা যায়: আউটসোর্সিংয়ে নানা ধরনের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কাজগুলো হচ্ছে ডেটা এন্ট্রি, ওয়েবসাইট তৈরি, প্রোগ্রাম লেখা, ছোট ছোট সফটওয়্যার তৈরির কাজ, ওয়েবসাইটে বিভিন্ন সৃজনশীল লেখার কাজ, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব প্রোগ্রামিং, নকশা তৈরি সম্পাদনা, অ্যানিমেশন তৈরি, গেম তৈরি, অনলাইনে বিপণন ইত্যাদি।বর্তমানে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) কাজ খুবই জনপ্রিয় হচ্ছে। একটি ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফলে প্রথম দিকে রাখার কৌশলগত প্রক্রিয়া হলো এসইও।

কাজ শুরুর আগে নিবন্ধন: আউটসোর্সিংয়ে বিভিন্ন কাজ শুরু করার আগে নিবন্ধন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটগুলোতে গিয়ে নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য পূরণ করলেই কাজ করার অনুমতি পাওয়া যায়। শুধু ওডেস্ক নামের সাইটটিতে নিবন্ধন করার পর নির্দেশনা পড়ে একটি পরীক্ষা দিতে হয়। এ পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল করলেই এখানে কাজ করার অনুমতি পাওয়া যায়।

কাজের ধরন: আউটসোর্সিংয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ পাওয়া যায়। জাকারিয়া চৌধুরী জানান, কোনো কোনো ওয়েবসাইটে বিভিন্ন প্রকল্প অনুযায়ী কাজ দেওয়া হয়। অর্থাৎ, একটি প্রকল্প শেষ করার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া থাকে। সেটি শেষ হলেই টাকা পাওয়া যাবে। আবার কোনো কোনো সাইটে ঘণ্টা অনুপাতে কাজের জন্য বিল দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে নিজের সুবিধামতো কাজের ধরন নির্ধারণ করে নিতে হবে। ঘণ্টা হিসেবে কাজের জন্য ওডেস্ক খুব জনপ্রিয় বলে জানান জাকারিয়া চৌধুরী।

কাজ শুরু করার আগে: আউটসোর্সিংয়ের কাজ শুরু করার আগে অবশ্যই নির্ধারণ করে নিতে হবে, আপনি কী কাজ করতে চান। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘আউটসোর্সিং শুরু করার আগে এ নিয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। কোন কাজটি আপনার জন্য উপযুক্ত বা কোন কাজে আপনি দক্ষ, তা নির্ধারণ করে কাজ শুরু করা উচিত।’

আউটসোর্সিংয়ে ভালো করতে হলে যাঁরা এই কাজের সঙ্গে জড়িত আছেন, তাঁদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। অথবা অনলাইনে বিভিন্ন সাইটে কাজ করার বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেওয়া আছে, সেখান থেকেও অনেক ধারণা পাওয়া যায়। শুরুতেই তেমন ভালো কাজ পাওয়া যাবে না। ছোট ছোট কাজ করতে করতে যখন গ্রাহকদের আস্থা অর্জিত হবে, তখন আস্তে আস্তে বড় বড় কাজ পাওয়া যাবে।

কাজ শুরুর পরে: আউটসোর্সিংয়ের কাজ শুরুর পর কিছু কিছু বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করতে হবে। এসব বিষয়ের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, গ্রাহকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা। বর্তমান কাজের কী অবস্থা, তা নিয়মিত গ্রাহক বা ক্রেতাকে জানানো। কোনো কাজ না পারলে বা না বুঝলে তা সরাসরি না করে দেওয়া উচিত। কাজ নেওয়ার পর তার সঠিক মান নিশ্চিত করতে হবে। কেননা, কাজ যদি মানসম্পন্ন না হয়, তাহলে গ্রাহক নেতিবাচক মন্তব্য করতে পারে। এর ফলে যাঁরা আউটসোর্সিংয়ের কাজ করছেন, তাঁদের প্রোফাইলে এটি একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে পরবর্তী সময়ে ভালো কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। সময়ের কাজ সময়েই সম্পন্ন করতে হবে। এটি ঠিকমতো পালন না করলে গ্রাহক কাজের আস্থা পাবে না। জাকারিয়া চৌধুরী জানান, ‘সঠিক সময়ে মানসম্পন্ন কাজ করতে পারলে নিজের প্রোফাইলের র্যাঙ্কিং বাড়তেই থাকবে। আর এর ফলে ভালো ভালো কাজ পাওয়া অত্যন্ত সহজ হবে।’

টাকা তুলবেন যেভাবে: আউটসোর্সিংয়ের কাজটা যেহেতু দেশের বাইরের কাজ, তাই টাকাটা সরাসরি পাওয়া যায় না। এর জন্য কিছু বিষয় আছে, যাঁরা এই কাজ শুরু করেছেন, তাঁদের অনেকেই এই পদ্ধতিটি জানেন। সেটির মধ্যে একটি হলো পাইনিয়র ডেবিট কার্ড। এটি করতে হলে টাকা তোলার স্থানে পাইনিয়র ডেবিট কার্ড নির্বাচন করতে হবে। আউটসোর্সিংয়ের সাইটে ন্যূনতম ৩০ ডলার জমা থাকলে এই কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে। আবেদন করার পর নির্দিষ্ট তথ্য পূরণ করতে হবে, কোথা থেকে টাকা আসবে তার ঠিকানা দিয়ে দিতে হবে। এরপর এক মাসের মধ্যেই কার্ডটি আপনার ঠিকানায় চলে আসবে। এরপর নিকটস্থ এটিএম বুথ থেকে আপনি টাকা তুলে নিতে পারবেন।

টাকা তোলার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে মানি বুকার্স। এতে ওয়েবসাইটে গিয়ে এই সাইটে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট অপশনে গিয়ে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে টাকা তোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে একটি কোড দেওয়া হয়, সেই কোডটি ওই সাইটে পোস্ট করতে হবে। এরপর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা চলে আসবে।

আউটসোর্সিং শুরু করার বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যাবে একটি বাংলা ব্লগে। এর ঠিকানা হলো: http://freelancerstory.blogspot.com

লক্ষ রাখুন

আউটসোর্সিংয়ে ভালো করতে হলে কম্পিউটার, ইন্টারনেট সম্পর্কে ভালো দক্ষতা থাকতে হবে।

ইংরেজি লেখা ও বোঝার দক্ষতা থাকতে হবে।

যে কাজ করতে চান, সে বিষয়ে দক্ষ হতে হবে।

কাজ বুঝে শুরু করতে হবে।

কাজ শেষ করার সময় ঠিক রাখতে হবে।

না বুঝে কাজ শুরু করা ঠিক নয়।

কাজ অসম্পন্ন করা যাবে না।

আউটসোর্সিংয়ের কাজ পাওয়া যায় এমন কয়েকটি ওয়েবসাইট:

http://www.odesk.com

http://www.freelancer.com

http://www.elance.com

http://www.vworker.com

http://www.getacoder.com

http://www.scriptlance.com

আরপি/ এএইচ

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.