অসাধারণ জয় বাংলাদেশের!

August 19, 2015 0 comments

রঙিন ডেস্ক: রোমাঞ্চকর উত্তেজনা আর চরম নাটকীয়তায় গ্যালারী পরিপূর্ণ ছিল সেদিন। হাজার দর্শকের গগন বিদারী চিৎকারও ছিল মঙ্গলবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে! রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত লাল-সবুজের জয়োল্লাস আর উৎসবে মাতোয়ারা গোটা বাংলাদেশ শিবির। গ্যালারীর আনন্দ উচ্ছাসের ঢেউ মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ল পুরো বাংলাদেশেই। অসাধারণ এক ম্যাচে ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সাফ অনুর্ধ্ব-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জিতল বাংলাদেশের কিশোররা।

BanRed

কোচকে নিয়ে উল্লাস

সেই ২০০৩ সালে জাতীয় দল সর্বশেষ করায়ত্ত করেছিল সাফের শ্রেষ্ঠত্ব। দীর্ঘ এক যুগ পর কিশোরদের কল্যাণে আবারও সাফ ফুটবলে দাপট দেখালো শাওন, ফাহিম, সাদরা।

বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো হলো সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। আর প্রথমবারের মতোই ফাইনালে বাংলাদেশ। প্রথমবারই শিরোপা জয়ের স্বাদ। এমন অনেক ‘প্রথম’ বাড়িয়ে দিয়েছে কিশোরদের শিরোপা জয়ের মাহাত্ম।

তবে এই মাহাত্ম আর মর্যাদা এসেছে কঠিন পথ পেরিয়ে। অনেক সাধনা আর কষ্টের ফল এই শিরোপা। অনেক ঘাম ঝরানো শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই ট্রফি। তাও আবার দুই-দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে। এবার অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ।

নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ গোলে অমীমাংসিত। কিশোর ফুটবলারদের খেলা হওয়ায় অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। ম্যাচ গড়ায় সরাসরি টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষায়। এখানে যে কেউ হেরে যেতে পারত। কিন্তু ভাগ্য বাংলাদেশের অনুকূলে ছিল এটা ভাবলে নিতান্তই বোকামি হবে। কারণ দাপটের সঙ্গেই দিনশেষে বিজয়ী হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দল। টাইব্রেকারে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে সাফের মুকুট জিতেছে কিশোর ফুটবলাররা।

প্রথমার্ধে দুর্দান্ত খেলেছে স্বাগতিক শিবির। তখন গোল হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফাহিমের গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। ৬৪ মিনিটে অমিয় অবিনাশের গোলে ম্যাচে ফেরে ভারত। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ, নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। তাতেই বাজিমাত বাংলাদেশের।

টাইব্রেকারে নেয়া চারটি শটেই বাংলাদেশের ফুটবলারা দেখিয়েছে তাদের কৃতিত্ব ও দক্ষতা। বলা চলে মেসি-রোনালদোদের মতো পেনাল্টি কিক নিয়েছেন তারা। কারণ ভারত গোলরক্ষক বুঝতেই পারেনি বল কোন দিকে যাচ্ছে।

টাইব্রেকারের রূদ্ধশ্বাস মুহূর্তে দুরুন্ত এক বাংলাদেশকেই দেখল সবাই। কারণ বাংলাদেশ চারটি শটেই সফল। ভারত দুটিতে। চারটির মধ্যে একটি শট প্রতিহত করে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক গোলরক্ষক ফয়সল আহমেদ।

বাংলাদেশের হয়ে চারটি গোল করে যথাক্রমে ফাহিম, সজীব, আতিকুজ্জামান ও সিলেটের ছেলে সাদ। ভারত প্রথম দুটি শটে সফল হয় সৌরভ ও রাকিপের সৌজন্যে। তবে তৃতীয় শটে অভিজিত ব্যর্থ, তার শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে। চতুর্থ শট নিতে ভারতের হয়ে আসেন সাকলাইন। কোন ভুল হয়নি, ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ধরে ফেলেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক ফয়সাল আহমেদ। বাংলাদেশ জয়ী ৪-২ ব্যবধানে। সাথে সাথেই উৎসবে ফেটে পড়ে জিলানী শিবির, সঙ্গে গোটা স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় দর্শকরা।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই জয়ও অসামান্য, অনন্য। টাইব্রেকারে বাংলাদেশের প্রতিটা গোল ছিল অসাধারণ, চেয়ে চেয়ে দেখার মতো। চলুন ভিডিওতে আরো একবার দেখে নেওয়া যাক টাইব্রেকারের গোলগুলো।

রোল অব অনার
সাল চ্যাম্পিয়ন রানার্সআপ
২০১১ পাকিস্তান ভারত
২০১৩ ভারত নেপাল
২০১৫ বাংলাদেশ ভারত

আরপি/ এ/এইচ

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.