শিশুকে গরুর দুধ খাওয়ানো যাবে কি?

শিশুকে গরুর দুধ খাওয়ানো যাবে কি? জুন ৮, ২০১৮ ০ comments

রঙিন ডেস্ক : বাচ্চা জন্ম নেওয়ার কয়েক মাস পর থেকেই গরুর দুধ খাওয়াতে শুরু করান অনেকেই। বাজারে অনেক বেবিমিল্ক থাকলেও অর্থনৈতিক কারণে অনেকেই গরুর দুধ খাওয়ান। আবার অনেক মা চাকরিজীবী হওয়ায় বাচ্চারা যত দ্রুত মায়ের দুধ খাওয়া ছাড়ে ততই তাদের জন্য ভালো হয়। সেক্ষেত্রে গরুর দুধ খাওয়ান অনেকেই। তবে প্রশ্ন হলো যে গরুর দুধ কি খাওয়ানো শিশুর জন্য ভালো-

জেনারেল গাইডলাইন
বাচ্চার বয়স ৬ মাস না হওয়া পর্যন্ত তাকে মায়ের দুধ ছাড়া আর কিছুই খাওয়ানো যাবে না। এই সময়ের পর থেকে ১ বছর পর্যন্ত অল্প করে গরুর দুধ দেওয়া যেতে পারে। ১ বছরের পর থেকে ব্রেস্ট ফিডিং না করিয়ে বাচ্চাকে পুরোদস্তুর গরুর দুধ খাওয়ালে কোনা ক্ষতি হয় না। তবে প্রতিটি বাচ্চার শারীরিক চাহিদা যেহেতু ভিন্ন ভিন্ন হয়, তাই ডায়েটে কোনো পরিবর্তনের আগে একবার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে ভুলবেন না।

১ বছরের আগে গরুর দুধ খাওয়ানো যাবে না কেন?
এই সময়ের আগে বাচ্চার হজম ক্ষমতা সেই পর্যায়ে পৌঁছায় না যে সে ব্রেস্ট মিল্ক ছাড়া অন্য কিছু খেতে পারবে। তাই এক বছরের জন্ম দিনের আগে নবজাতককে গরুর দুধ খাওয়াতে মানা করেন চিকিৎসকরা। প্রসঙ্গত, এই সময়ের আগে যদি বাচ্চাকে গরুর দুধ খাওয়ানো হয়, তাহলে এতে থাকা প্রোটিন এবং মিনারেল হজম করতে না পেরে বাচ্চার কিডনির সমস্যা, রক্তাল্পতা, অ্যালার্জি, ডায়ারিয়া, পেটের রোগ, বমি প্রভৃতি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

১২ মাস পর থেকে গরুর দুধ খাওয়ানো যেতে পারে কি?
নবজতকের প্রথম জন্মদিন পালনের পর থেকেই ধীরে ধীরে তাকে গরুর দুধ খাওয়ানো শুরু করা যেতে পারে। কারণ এই সময় বাচ্চার হজম ক্ষমতা গরুর দুধকে হজম করে নিতে সক্ষম হয়। ফলে কোনও ধরনের শারীরিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
প্রসঙ্গত, গরুর দুধে উপস্থিত একাধিক পুষ্টিকর উপাদান এই সময় বাচ্চার হাড় এবং দাঁতের গঠনে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে রক্ত প্রবাহ ভাল করার পাশপাশি পেশির গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখানেই শেষ নয়, গরুর দুধে উপস্থিত ভিটামিন-ডি আরো নানাভাবে শিশুকে সুস্থ-সবল থাকতে সাহায্য করে থাকে।
এক্ষেত্রে একটা জিনিস জেনে রাখা প্রয়োজন যে, গরুর দুধে প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম থাকে। তাই তো ছোট বয়সে বাচ্চাদের বেশি করে এই দুধ খাওয়ালে বড় বয়সে গিয়ে হাড়ের রোগ, ব্লাড প্রেসার, স্ট্রোক এবং কোলন ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে।

আরো পড়ুনঃ-মা হতে চিকিৎসকের সঙ্গে যে পরামর্শগুলো করবেন

গরুর দুধের সঙ্গে বাচ্চাকে মায়ের দুধ খাওয়ানো যাবে কি?
একবার গরুর দুধ খাওয়ানো শুরু করে দিলে বাচ্চাকে আর মায়ের দুধ না খাওয়ালেও চলবে। কিন্তু যদি দেখেন আপনার বাচ্চা গরুর দুধ খেতে চাইছে না, সেক্ষেত্রে ব্রেস্ট মিল্ক খাওয়ানো ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না। তবে ধীরে ধীরে বাচ্চাকে গরুর দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস করাটা কিন্তু জরুরি।
১ বছরের পর থেকে কত পরিমাণ দুধ খাওয়াতে হবে? একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে ১ বছর বয়সি বাচ্চার শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিনের চাহিদা পূরণের জন্য দিনে ১-২ কাপ গরুর দুধ খাওয়ানো জরুরি।

বয়স অনুযায়ী বাচ্চার ডায়েট চার্ট:
১. নবজাতককে কেবল মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। এই সময় আর কোনও খাবার দেওয়া চলবে না। প্রসঙ্গত, ১ মাস বয়স পর্যন্ত প্রতি ২ ঘন্টা অন্তর খাওয়াতে হবে। আর ১-৪ মাস বয়স পর্যন্ত প্রতি ২-৪ ঘন্টা অন্তর ব্রেস্ট মিল্ক ফিড করতে হবে নবজাতককে।

২. ৫-৬ মাস বয়সের শিশুরাও খাবে ব্রেস্ট মিল্ক। যদিও এই সময় পরিমাণ একটু বাড়বে। কারণ এই বয়সে এসে বাচ্চার হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘঠতে শুরু করে।

৩. ৬-৮ মাস বয়সিদের ব্রেস্ট মিল্ক, অল্প করে গলা ভাত, ওটস, গলানো কলা, আম, জাম এবং নাশপাতি খাওয়ানো যেতে পারে। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে।

৪. ৮-৯ মাস বয়সিদের ব্রেস্ট মিল্কের সঙ্গে বার্লি, রাগি, ভাত এবং ওটস খাওয়াতে পারেন। ফলের ক্ষেত্রে খাওয়াতে পারেন আপেল, কলা, খেজুর (বীজ ছাড়া), আঙুর, আম, নাশপাতি প্রভৃতি।

৫. ১০-১২ মাসের বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে কলা, আপেল, পেঁপে, আঙুর, আম, আলু, রাঙা আলু, ব্রকলি, কর্নফ্লাওয়ার, রাজমা, চানা, দই, চিজ প্রভৃতি। এই বয়সে অল্প করে ডিমের সাদা অংশ, মাছ এবং মাংসও খাওয়ানো যেতে পারে। তবে একবার চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নেবেন এই বিষয়ে। তারপরেই শিশুর ডায়েটে কোনও পরিবর্তন আনবেন।

আরপি/ এএইচ

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

<