শ্রীলংকার ইতিহাসে সর্বপ্রথম দেশের শীর্ষ পদে দুই ভাই

শ্রীলংকার ইতিহাসে সর্বপ্রথম দেশের শীর্ষ পদে দুই ভাই নভেম্বর ২১, ২০১৯ ০ comments

রঙিন ডেস্ক : শ্রীলংকার ইতিহাসে সর্বপ্রথম দেশের শীর্ষ পদে দুই ভাই । দুইবারের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে এবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তার আপন ছোট ভাই গোটাবায়া রাজাপাকসে ইতোমধ্যেই শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শ্রীলংকার সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে শপথ গ্রহণের পর সহোদর বড় ভাই ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মাহিন্দা আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন বলে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এর আগে সোমবার উত্তর মধ্যাঞ্চল প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী অনুরাধাপুর শহরের একটি প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দিরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন মাহিন্দার ছোট ভাই গোটাবায়া। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি জয়ন্ত জয়সুরিয়া।

প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ৭৪ বছর বয়সী বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসেকে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন সদ্য নির্বাচিত ৭০ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে।

আরো পড়ুন<> পাকিস্তান থেকে আনা পেঁয়াজ দ্রুত খালাসের উদ্যোগ

শ্রীলংকার গৃহযুদ্ধকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী গোটাবায়ার আরও দুই ভাই ব্যাসিল এবং চামালও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মাহিন্দা প্রথমবার যখন দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন; তখন বড় ভাই চামালকে তিনি সংসদের স্পিকার করেন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র বিজয়নন্দ হেরাথ বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিপরিষদের অন্যদের নিয়োগ দেবেন মাহিন্দা রাজাপকসে।

২০১৫ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় থাকার আগ পর্যন্ত মাহিন্দার সরকারে প্রতিরক্ষা সচিবের দায়িত্ব পালন করেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া। প্রেসিডেন্ট হিসেবে গোটাবায়া এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাহিন্দার দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শ্রীলংকার ইতিহাসে সর্বপ্রথম এক সঙ্গে দুই ভাই দেশের শীর্ষ পদে বসছেন।

এদিকে শপথ নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গোটাবায়া। তার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ায় সংখ্যালঘু তামিল ও মুসলিমদেরকেও তাকে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গত এপ্রিলে ইস্টারের দিনে শ্রীলংকায় জঙ্গি হামলার পর গোটাবায়া তার নির্বাচনী প্রচারে মানুষকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। ওই হামলার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলি বৌদ্ধ ও তামিল মুসলিমদের মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি হয়। এই বিভক্তি গোটাবায়াকে ভোটে জিততে সহায়তা করে।

তামিল গেরিলাদের পরাস্ত করে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটান গোটাবায়া। কিন্তু এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণে সংখ্যালঘুরা তাকে নিয়ে শঙ্কিত।

এএইচ

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

<