মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮ ০ comments

রঙিন ডেস্ক : ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলার-২০১৮’র আজ শনিবার দশম দিন।গতকাল শুক্রবার ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলার-২০১৮’র ৯ম দিনে মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ফারহানা চৌধুরী বেবীর পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘বাংলাদেশ একাডেমী অব ফাইন আর্টস লি. (বাফা)’-এর শিল্পীবৃন্দ নৃত্য পরিচালনা করেন। এসময় সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মীনা বড়ুয়া, আবুবকর সিদ্দিক, মো. মুরাদ হোসেন।

অমর একুশে গ্রন্থমেলার ৯ম দিন মেলা চলে সকাল ১১:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। গতকালের মেলায় নতুন বই এসেছে ৩৪৪টি। সকাল ১১:০০টা থেকে বেলা ১:০০টা পর্যন্ত মেলায় ছিল শিশুপ্রহর।

বিকেল ৪:০০টা গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় রশীদ উদ্দিন \ উকিল মুন্সী \ বারী সিদ্দিকী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুমনকুমার দাশ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কামালউদ্দিন কবির এবং সাইমন জাকারিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নূরুল হক।

প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলার গ্রামীণ সমাজ-সংস্কৃতিতে, বিশেষত হাওরাঞ্চলে যেসব সাধক লোকায়ত ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার হিসেবে আসীন, তাঁদের মধ্যে উকিল মুন্সী ও রশিদ উদ্দিন অন্যতম। তাঁদের রচিত গান নাগরিক সমাজে সম্প্রসারণ ঘটিয়েছেন যে কয়েকজন হাতে-গোনা ব্যক্তি, এঁদের মধ্যে শিল্পী বারী সিদ্দিকীর ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক অঞ্চলের এই তিন লোকমনীষার গান রচনা ও সুর সংযোজনা ক্ষুরধার এবং তৃণমূললগ্ন। লোকায়ত বাংলার এই তিন সাধক প্রকৃতই বাঙালির ঐতিহ্যিক মননবিশ্বের উজ্জ্বল প্রতিনিধি।

আলোচকবৃন্দ বলেন, কেবল নেত্রকোণার হাওর অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি ও জনজীবনই নয়, সেখানকার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের ধারক ও বাহক ছিলেন উকিল মুন্সী ও রশীদ উদ্দিনের মতো বাউল সাধকেরা। রূপকতার আশ্রয়ে তাঁরা বলে গেছেন বিশ্বজগৎ ও জীবনের নানা নিগূঢ় ও অক্ষয় সত্য। মানবজীবনের প্রেম, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ-বেদনা ছাড়াও তাত্ত্বিক দিক থেকেও তাঁদের গান ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মানবীয় চেতনা ও মানব-আবেগের মর্মস্পর্শী প্রকাশ তাঁদের গানকে শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল হক বলেন, এই তিন গুণী বাউল সাধক ও শিল্পীদের মতো বাংলার পথে-প্রান্তরে আরো অনেক বাউলরত্ন লুকিয়ে আছেন। তাঁদের জীবনবোধ ও জীবনচেতনা অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমাদের শিল্প, সাহিত্য ও জাতিসত্তার উৎসের সন্ধান করতে হবে।

এএইচ

এসজেডকে

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

<