মাথাব্যথার কারণ ও প্রতিকার

মাথাব্যথার কারণ ও প্রতিকার নভেম্বর ৪, ২০১৮ ০ comments
The foods that will be avoided during migraine

মাথাব্যথার কারণ ও প্রতিকার

রঙিন ডেস্ক : যদি প্রায় প্রায়ই মাথাব্যথা হয় আর তার তীব্রতা যদি বেশি হয় তাহলে বড় সমস্যাই বটে। এমনও হতে পারে যে মাথাব্যথার মাধ্যমে শরীর আপনাকে গভীর কোনও সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে৷ বিশেষ করে মাথাব্যথার সঙ্গে নিচের সমস্যাগুলির কোনো একটি বা একাধিক যুক্ত থাকলে অথবা বারবার তা ফিরে এলে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আগেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন৷

চোখে দেখতে, হাঁটতে বা কথা বলতে অসুবিধা৷
ঘাড়ে ব্যথা এবং ঘাড় ঘোরাতে সমস্যা৷
গা-বমি ভাব বা বমি হওয়া৷
জ্বর (বিশেষ করে যদি তাপমাত্রা 102 ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে না নামে)৷
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া৷
শরীরের একটা দিকের নড়াচড়ায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে৷
ক্লান্ত লাগছে, শরীরের বিশেষ অঙ্গে সাড় পাচ্ছেন না৷
দৈনন্দিন কাজকর্ম বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে এবং মাথাব্যথা ফিরে আসছে বারবার৷

কেন মাথাব্যথা হচ্ছে বুঝবেন কীভাবে?
মাথাব্যথার কয়েকটা ধরণ আছে, বিশেষ বিশেষ শারীরিক সমস্যা ছাড়া মোটামুটি সেই ধরনগুলি অনেকের ক্ষেত্রেই মিলে যায়৷ যেমন ধরুন, স্ট্রেস বা টেনশনের কারণে মাথাব্যথা হতে পারে৷ সেক্ষেত্রে ব্যথাটা আপনার গোটা মাথা জুড়ে ছড়িয়ে থাকবে, বিশেষ করে কপালে আর মাথার পিছন দিকে ব্যথাটা বেশি বিব্রত করে৷ এই ধরনের ব্যথা বেশ কিছুক্ষণ থাকে৷ ঘুমোলে, ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করলে বা আলো বন্ধ করে চোখ বুজে থাকলে আরাম মেলে৷ সাইনাসের মাথাব্যথা দেখা দেয় ঋতু বদলের সময় বা ঠান্ডা লেগে নাক বন্ধ হলে৷ ব্যথাটা শুরু হয় নাকের ব্রিজে, কপালের দু’পাশ পর্যন্ত যায় এবং দপদপ করে৷ স্টিম ইনহেল করলে এই মাথাব্যথায় আরাম পাওয়া যায়৷ যাঁদের মাইগ্রেন আছে, তাঁদের মাথাব্যথাটা সাধারণত শুরু হয় কপালের দু’পাশের রগের কাছে৷ চোখে বা মাথার পিছন পর্যন্ত ব্যথাটা চারিয়ে যায়৷ সঙ্গে থাকে মাথা ঘোরা আর গা বমি ভাব৷ বমিও হয় ক্ষেত্র বিশেষে৷ অ্যাসিডিটি, আলো, শব্দের প্রভাবে এই মাথাব্যথা বাড়তে পারে৷ এছাড়া চোখের পিছনে ও মাথার পিছনদিকে আচমকা তীব্র ব্যথার অনুভূতিও বিব্রত করে বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে, একে বলে ‘ক্লাস্টার হেডএক’৷

আরো পড়ুন:- অফিসে প্রেম করার আগে খেয়াল করুন

কোন কোন পদ্ধতির আশ্রয় নিলে মাথাব্যথা কমে?
কাজ থেকে বিরতি নিন, রিল্যাক্স করুন: যদি মনে হয় যে মাথাব্যথা আপনাকে এমন বিব্রত করছে যে আপনি কাজে মন দিতে পারছেন না, তা হলে অবশ্যই খানিকক্ষণের বিরতি নিন৷ অন্তত আধ ঘণ্টা যদি কোনও অন্ধকার ঘরে একেবারে রিল্যাক্সড মুডে বা চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকতে পারেন, তা হলে উপকার পাবেন৷ এই সময়ে আপনার ঘাড়ে যেন বাড়তি প্রেশার না পড়ে সেটা দেখতে হবে৷ কারও কারও এরকম সময় ঠান্ডা ঘরে থাকলে ভালো লাগে, কারও পছন্দ উষ্ণ আবহ৷ আপনার ক্ষেত্রে কোনটা আরাম দিচ্ছে, সেটা দেখে নিন৷

পানি খান: শরীর ডিহাইড্রেটেড হতে আরম্ভ করলেই কিন্তু মাথাব্যথার মাধ্যমে আপনাকে সিগন্যাল দিতে পারে৷ তাই পর্যাপ্ত পানি পান করুন৷ মাথা ব্যথা একবার শুরু হয়ে গেলে কিন্তু খুব ঠান্ডা বা খুব গরম পানি খাবেন না, তাতে অস্বস্তি বাড়তে পারে৷

কফি বা চায়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না: অনেকেই মাথাব্যথা কমাতে কফি বা চায়ের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, সেটা উচিত নয়৷ এর ফলে গোড়ায় সাময়িক আরাম হলেও পরে আবার ক্যাফেইনে অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হতে পারে৷

টেনশন বা সাইনাসের ব্যথার ক্ষেত্রে মাসাজে আরাম পাবেন: মাসাজের বিশেষ কয়েকটি পদ্ধতি কাজে দিতে পারে৷ ঘাড়ের ব্যায়াম আর নির্দিষ্ট কিছু প্রাণায়ামও এই ধরনের ব্যথা কমাতে কার্যকর৷

পারফিউমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত রাখুন: সাবান, ময়েশ্চরাইজ়ার বা আপনার প্রিয় সুগন্ধির বোতলটিও কিন্তু মাথাব্যথার কারণ হতে পারে৷ তাই এগুলি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করুন৷ গন্ধহীন প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়৷

আরপি/ এএইচ

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

<