বিশ্ব সপ্তাশ্চর্যের তাজমহল

বিশ্ব সপ্তাশ্চর্যের তাজমহল June 10, 2017 0 comments

সরদার জাহিদুল কবীর: তাজমহল এখনও বিশ্বের নতুন সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে টিকে আছে । তাজমহল ভারতের আগ্রায় অবস্থিত প্রেমের অদ্বিতীয় নিদর্শন, একটি রাজকীয় সমাধি, ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।

t2এটির নক্সা করেছিলেন দেশ-বিদেশের একদল প্রখ্যাত স্থপতি। এর নির্মাণশৈলীতে পারস্য, তুরস্ক, ভারতীয় এবং ইসলামী স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। প্রকৃতার্থে তাজমহল সামগ্রিকভাবে একটি জটিল অখন্ড স্থাপত্য।

t3১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে তাজমহলকে তালিকাভুক্ত করে। তখন এটিকে বলা হয়েছিল “Universally admired masterpiece of the world’s heritage”। মুঘল সম্রাট শাহ জাহানের দ্বিতীয় স্ত্রী আরজুমান্দ বানু বেগম বা মুমতাজ মহল ১৬৩১ সালে চতুর্দশ কন্যা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। স্ত্রীর প্রতি গভির প্রেমের নিদর্শন হিসেবে পর বছরই তিনি নির্মাণ শুরু করেন তাজমহলের।

t4আগ্রা শহরের দক্ষিণ অংশের মহারাজা জয় শিং-এর একটি জমি বিশাল এক প্রাসাদের বিনিময়ে নেন শাহজাহান। তারপর শুরু করেন এটার নির্মাণ। নির্মাণকাজের ক্রম ছিল ভিত্তি, সমাধি, চারটি মিনার, মসজিদ ও জাওয়াব এবং প্রবেশ দরজা। ভিত্তি কাঠামোটি বিশাল এবং কয়েক কক্ষবিশিষ্ট। প্রধান কক্ষটিতে মুমতাজ মহল ও শাহজাহানের স্মৃতিফলক বসানো হয়েছে। তাঁদের কবর রয়েছে এক স্তর নিচে। চারটি মিনার রয়েছে ভিত্তির চার কোণায়। সমাধির উপরে মার্বেল পাথরের গম্বুজই সমাধির সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিক। গম্বুজগুলোতে কাসা বা তামার পুরনো দন্ড রয়েছে। উপরের দিক সাজানো হয়েছে পদ্মফুল দিয়ে। মুকুটের মতো চূড়া ১৮ শতকের আগে স্বর্ণ এবং বর্তমানে ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি হয়েছে। আটাশ ধরনের মহামূল্যবান পাথর সাদা মার্বেল পাথরেরে উপর বসানো রয়েছে।

t5তাজমহলের সামনে রয়েছে ১৬টি ফুলের বাগান। মাজার ও দরজার মাঝামাঝি অংশ এবং বাগানের মাঝে একটি উঁচু মার্বেল পাথরের পানির চৌবাচ্চা বসানো আছে। উত্তর-দক্ষিণে একটি সরল রৈখিক চৌবাচ্চা আছে যাতে তাজমহলের প্রতিফলন দেখা যায়। এছাড়াও বাগানে রয়েছে বেশ কিছু বৃক্ষশোভিত রাস্তা এবং ঝরনা। তাজমহল-এর চত্বরটি বেলে পাথরের দেয়াল দিয়ে তিন দিক থেকে বেষ্টিত। নদীর পাশটিতে কোন দেয়াল নেই। এই দেয়াল বেষ্টনির বাইরে শাহজাহানের অন্য স্ত্রীদের সমাধি এবং মুমতাজের প্রিয় পরিচারিকাদের সমাধি রয়েছে।

t6তাজমহলের প্রধান ফটকও তৈরি হয়েছে মার্বেল পাথরে। এর খিলানসমূহের আকৃতি হুবহু সমাধির খিলানসমূহের অনুরূপ এবং ক্যালিগ্রাফি নক্সার সাথে মিলিয়ে করা হয়েছে। এর ছাদ বেলে পাথরের ইমারতের মত জ্যামিতিক নক্সা করা। চত্বরের শেষে বেলেপাথরের দুটো বিশাল ইমারত রয়েছে, যার সমাধির দিকের অংশ খোলা। পূর্ব দিকের ইমারতটি মসজিদ। অন্যটি জাওয়াব, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারসাম্য রক্ষা করা। এটি মুঘল আমলে মেহমানদের থাকার জন্য ব্যবহৃত হতো।

t7তাজমহলের মূল হলো সাদা মার্বেল পাথরের সমাধি। এটি একটি বর্গাকার বেদিকার উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ১৬৪৮ সালে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। তাজমহল নির্মাণে তৎকালীন আনুমানিক ৩২মিলিয়ন রুপি খরচ হয়। এর নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই শাহ জাহান তাঁর পুত্র আওরঙ্গজেব দ্বারা ক্ষমতাচ্যুত ও গৃহবন্দী হন। কথিত আছে, জীবনের বাকী সময়টুকু শাহ জাহান আগ্রার কেল্লার জানালা দিয়ে তাজমহলের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে কাটান। শাহ জাহানের মৃত্যুর পর আওরঙ্গজেব তাঁকে তাজমহলে তাঁর স্ত্রীর পাশে সমাহিত করেন। ২০০৭ সাল থেকে আয়োজিত বিশ্ব ভোটে পৃথিবীর নতুন সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে ৭ম স্থান অধিকার করে এটি।

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.