প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের মস্কোর ঘন্টা

প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের মস্কোর ঘন্টা জুলাই ২০, ২০১৭ ০ comments

সরদার জাহিদুল কবীর: বিশ্বের প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের একটি হলো মস্কোর ঘন্টা। যা মস্কোর ক্রেমলিনের ইভান গ্রেট বেল টাওয়ারের অনতিদূরে অবস্থিত। আমরা এটাকে মস্কোর ঘন্টা বলে জানি। তবে এটা ‘জার বেল’(Tsar Bell) নামে পরিচিত এবং তৃতীয় সংস্করণ।

m2ব্রোঞ্জের তৈরি বৃহদাকৃতির এই ঘন্টার ওজন  প্রায় ২০২ টন। উচ্চতা ৬.১৪ মিটার, ব্যাসার্ধ ৬.৬ মিটার। ব্রোঞ্জের পুরুত্ব ৬১ সেন্টিমিটার। একটা গ্রানাইটের বেদীর উপর রক্ষিত হয়েছে প্রাচীন বিশ্বের এই অন্যতম বিস্ময়। নামে ঘন্টা। ঘন্টা বাজে না কখনও।

জার পিটার দ্য গ্রেটের ভায়েস্তা সম্রাজ্ঞী আন্না ইভানভার অনুমতিক্রমে তৈরি করা হয় এটা। রাজকুমারী আন্না প্রথমে ফ্রান্সের রাজকীয় কারিগর দিয়ে ঘন্টাটি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জার্মানীর আদালত এটাকে অসম্ভব কর্ম বলে প্রত্যাখান করার ফলে, আন্না কাজটি করার দায়িত্ব দেন তৎকালীন বিখ্যাত রুশ কারিগর ইভান মতরিন আর তার ছেলে মিখাইল মতরিনকে।

m3জানা যায়, প্রথমবার দুবছর কাজ করার পর এক রহস্যময় অগ্নিকান্ডের ফলে ঘন্টাটি নষ্ট হয়ে যায়, যার শোকে মারা যায় মূল কারিগর ইভান মতরিন। পরবর্তীতে মিখাইল মতরিন পুরো দায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নেন। তিনি দুইশত নামিদামী কারিগর নিয়ে ১৭৩৫ সালে কাজ পুনরায় শুরু করে ৩৭ সালে এই বিশাল কর্মযজ্জ্ঞটি শেষ করেন। কিন্তু জনশ্রুতি আছে, ঘন্টাটি তৈরির পরে মাটির গর্তে যখন ঠান্ডা করা হচ্ছিল তখন আবার ক্রেমলিনের ফের ভয়ঙ্কর এক অগ্নিকান্ডে ঘন্টা’টির ক্ষতিসাধন হয়। রাজকীয় কর্মচারিরা উত্তপ্ত সেই ঘন্টা অতি দ্রুত শীতল করেত যেয়ে সবচে বড় ক্ষতিটা করে ফেলে।

অন্য এক সূত্র মতে, হঠাৎ মুষল ধারায় বৃষ্টিপাতের ফলে উত্তপ্ত ঘন্টাটি অতিদ্রুত ঠান্ডা হওয়ার ফলে ভেঙ্গে যায়। ঘন্টা থেকে ১১.৫ টনের একটা খন্ড আলাদা হয়ে যায়।

m5অন্য আরেক সূত্র থেকে জানা যায়, সুইডিসদের সাথে এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধে জয়ী হয়ে পিটার দ্য গ্রেট যখন মস্কোতে ফিরে আসেন তখন তিনি আদেশ করেন তার বিজয় সেলিব্রেট করতে মস্কোর সব ঘন্টা বাজাতে।কিন্তু সারা মস্কোর সব ঘন্টা যখন টুংটাং স্বরে বাজছিল তখন নিশ্চুপ ছিল শুধু জার বেল। পিটার দ্য গ্রেটের গার্ড রেজিমেন্টের সব সৈন্য মিলে বহু চেস্টা করেও এই ঘন্টা থেকে একটা ঢং শব্দ বের করেত পারেনি। তখন পিটার ক্ষুব্ধ হলেন ঘন্টার্ উপর! তার ধারনা হলো তার এই মহান বিজয় উৎসবের বিরোধীতা করছে এই ঘন্টা। অতএব এটাকে ভেঙ্গে গর্তে ফেলে দাও।

m6সূত্রমতে ‘জার বেল’ প্রায় একশত বছর ১৮৩৫ সাল পর্যন্ত অনাদর অবহেলায় পড়ে ছিল সেই গর্তে। ফরাসী স্থপতি অগুস্তে মন্তফ্রেন্দ সেটাকে উত্তোলন করে গ্রানাইট ভিত্তিস্থম্ভে স্থাপন করেন ১৮৩৬ সালে । আর ভাঙ্গা সেই টুকরোটিকে রেখে দেন তার পাশেই।

m7এর আগে একই নামে আরো দুটো ঘন্টা তৈরি করা হয়েছিল। প্রথমমটা তৈরি হয় ১৬৫৫ সালে। যার ওজন ছিল ১৩০টন। সেটাও কখোনো বাজেনি চার্চের বিরোধীতার কারনে। আর পরেরটা তৈরি হয় ১৭০১ সালে। সেটার অবস্থাও হয়েছিল একই।

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

<