প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের পিরামিড

প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের পিরামিড July 1, 2017 0 comments

সরদার জাহিদুল কবীর: পিরামিড প্রাচীন পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের একটি। প্রাচীন মিশর শাসন করতেন ফারাও রাজারা। তাদের কবরের উপর নির্মিত সমাধি মন্দিরগুলোই পিরামিড হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

p2মিসরে এ পর্যন্তু ছোটবড় ১৩৫টি পিরামিড আবিস্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষনীয় হচ্ছে গিজা’র পিরামিড। এটি খুফু’র পিরামিড হিসেবেও পরিচিত। এটি তৈরি হয়েছিল প্রায় ৫০০০ বছর আগে। এর উচ্চতা প্রায় ৪৮১ ফুট এবং ৭৫৫ বর্গফুট জমির উপর স্থাপিত।

p8এটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল ২০ বছর এবং শ্রমিক খেটেছিল ১ লাখ। এটি তৈরি করা হয়েছিল বিশাল বিশাল পাথর খন্ড দিয়ে। পাথর খন্ডের এক একটির ওজন ছিল প্রায় ৬০ টন। দৈর্ঘ্য ছিল ৩০ থেকে ৪০ ফুটের মতো। এগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল দূর দুরান্তের পাহাড় থেকে। পাথরের সাথে পাথর জোড়া দিয়ে এমনভাবে পিরামিড তৈরি করা হতো যে, একটি পাথর থেকে আরেকটি পাথরের মাঝের অংশে একচুলও ফাঁক থাকত না।

p5প্রাচীনকালে মিশরীয়রা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতো, মৃত্যুর পরও তাদের আত্মা বেঁচে থাকে। তাই পরবর্তী জীবনে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, জীবনটাকে যাতে উপভোগ করা যায়, সে চিন্তায় তারা অস্থির থাকতো। ব্যক্তির গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে সমাধির গুরুত্বারোপ করা হতো। ক্ষমতায় আসা রাজার প্রথম কাজ হতো তার সমাধিক্ষেত্র নির্মাণ। অনেকে মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত সমাধিক্ষেত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যেত।

p7তারা মনে করত, মৃতদেহ টিকে থাকার ওপরই নির্ভর করে আত্মার বেঁচে থাকা বা ফিরে আসা। এ কারণে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য মমি তৈরি করত তারা। মৃতের মস্তিস্ক এবং পেটের ভেতরের অঙ্গসমূহ বের করে কাঠের গুড়ি ভরে ৭০ দিন এক ধরণের আরবের মধ্যে ডুবিয়ে পচনরোধী করা হতো মরদেহকে। এটিই মমি।

p4মমির সঙ্গে নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র, বিশেষ করে খাবার-দাবার, ব্যবহার্য জিনিসপত্র ও ধন-সম্পদ দিয়ে দিতো তারা। ফিরে আসা আত্মা যাতে সঠিক মানুষটাকে চিনতে পারে এ জন্যে মমির পাশে লিখে রাখা হতো নাম ঠিকানা। মমি রাখা হতো সমাধিতে। আর সমাধিঘিরে তৈরি হতো পিরামিড।

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.