কবি কামাল বারি’র তিনটি কবিতা

কবি কামাল বারি’র তিনটি কবিতা June 9, 2017 0 comments

 

খেত খামারের হাত

তুই যদি সখি মৌন স্রোতে থাকতে পারিস শুয়ে–
আধ খানা চাঁদ কাত হ’য়ে দেহ নুয়ে– তুই যদি…
তোর দুই চোখে ঠোঁটে-মুখে ফোটে ঘুমের চুমুর;
বিরহী আমি আঁধারে- ডুমুর আষাঢ়ে শ্বেত জবা;
আহা, কবে ঝ’রে যাই ঝুম বর্ষণে বর্ষা রাত্রিতে–!
নিরিবিলি আঁধারেতে এই পোড়া ছাই–ঝ’রে যাই;

অচেনা গ্রামে ঘুমিয়ে- পড়া বহু চোখ মনে পড়ে;
বহু নদ-নদী স্বচ্ছ জল উছলায় জোছনায়… ;
কচি বাছুরের পায়ে কার্তিকের কাঁচা রোদ প’ড়ে
স্বপ্ন বাজ হ’য়ে ওড়ে– গৃহস্থের হরষিত চোখ…;

তুই সখি দোঁয়াশের কোল– ফলনে উঠিস ভ’রে!
খেত খামারের হাত দুটি যে সৃজন তৃষ্ণা ভরা–!
আহা, কিভাবে যে বাঁচি অভিমানে– উদাসি বাতাস!
বঁধুয়া, আমারে তুই শিশুতোষে ভোলাতে যে চাস..!
*********************

সৌর রেখায় সত্যের মতো জ্বলছে স্বদেশ

এখন উদিত সূর্যের প্রত্যাশায় জাগে
এখন আলোক মালায় সাজানো ঘর-দোর-প্রান্তর
অর্জিত প্রতিটি মরাল পালক শোভিত আহা
গর্বিত বাঙালি হিমালয়- শিরে উড্ডীন
আমাদের চির তারুণ্য অধ্যুষিত বাংলা
আজ সৃজিত শস্যে উঠছে ভরে

আমাদের চন্দ্র সূর্য গ্রহ নক্ষত্র স্বাধীন সৃষ্টিশীল
আমাদের মানচিত্র পতাকা গান
কবিতা চিত্র কলা বিশ্ব বহমান
আমাদের মহান পিতা প্রজ্ঞাময় বীরের দ্যুতি
মাতা আমাদের মহতী পবিত্র ভূমি
বিশ্ব সভার উজ্জ্বল আলোক শিখা আমাদের বোন
সুদীর্ঘ যৌবনের ভাইয়েরা সৃজনে শৌর্যশীল

মোহন নির্মাণের ধ্বনিতে মুখরিত দশদিক
আমাদের আকাঙ্ক্ষা এখন উজ্জ্বল উর্বর বিশ্বভূমে বহমান
জলবতী অসংখ্য নদী ঘুরে বেড়ায় পৃথিবীর হৃদয় জমিন জুড়ে
আমাদের পুঞ্জিভূত স্বপ্ন এখন বাস্তব রূপকাঠামোয় দৃশ্যমান

সুগভীর স্রোতস্বিনীর প্রাণের আঘাতে গড়ে উঠছে
সুন্দর মানবিক পাললিক সভ্যতা
বিশ্ব মন্দ্রিত হাতগুলো রেখে যায় নতুন নির্মাণের হৃদিক চিহ্ন

এখন সুদীপ্ত সৌর রেখায় সত্যের মতো জ্বলছে স্বদেশ
আলোক রশ্মিতে মাটির শিশুরা হাত পা নিচ্ছে সেকে

সুবিশাল এক ভাগাড় রাখা হয়েছে– সময়ের আস্তাকুড়
সবলে সেখানে ছুড়ে দেয়া হচ্ছে তাবৎ শ্যাওলা আবর্জনা
নষ্ট ভ্রষ্ট মরচে পড়া সব যাচ্ছে আস্তা কুড়ে
সতেজ স্বপ্নবাজ মুখগুলো আজ পরাবাস্তব যাদুর মতো ছুঁয়ে ছুঁয়ে
বদলে নিচ্ছে আঁধার চারী মুখ গুলোকে…

এখন ষড় ঋতুর রূপ সুষমা বিশ্ব জনে আদুরে পর্যটন
আমাদের আবেগী সবুজ গাম্ভীর্যে টেকসই উজ্জ্বল রঙ
পাখিরা গাইছে শতকণ্ঠে সম্প্রীতির বিশ্ব গান
ফুলগুলো ফুটছে প্রবল শস্যের প্রতিশ্রুতি
পূর্ব পুরুষের আলোর চুমুক এনে দিয়েছে সুন্দরতার অপার মোহর
প্রজন্মে প্রজন্মে বহমান কল্যাণ ধারা…
*******************

প্রমাণ প্রেমের দারুণ আহ্বান

পাকা ধানের উজ্জ্বল নগ্নতা ওই কৃষাণ মেয়ের ঐশ্বর্য;

অকপট ভূমির সাথে আমি নিবিড় গেঁথে যাই!
নগর-ব্যস্ততা ছুড়ে ফেলে চলে যাই শস্য সুঠাম
বাংলার প্রান্তরে;
অন্তরে যার অপার আগ্রহ চিরকাল…;

সম্পন্ন ফসলের উদার হাত ছানি আমাদের
প্রতি ইঞ্চি ভূগোলব্যেপে;
নিস্পৃহতা ছুঁইতে পারেনা কখনও এ-মাটির
কঠিন কৃষাণে রমন;
কৃষাণী তার চরায় খরায় বানে বন্যায় বাঁধে বুক;
বারবার বাঁচবার সংগ্রাম প্রকৃত যোদ্ধা নারীর…;

প্রমাণ প্রেমের দারুণ আহ্বান নিয়ে জেগে থাকে
সংসার সেবা পরায়ণ মানসী;
অগণন নক্ষত্র দোল খায় এখানে শস্যল ফসলের ক্ষেত
আর নারীর কোল জুড়ে;
প্রজ্ঞাময় প্রজন্ম জন্ম-জন্মান্তরে শুধু মানবিক আলো চায়।

***********************************

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.